Muhammad Rakib Raza

Muhammad Rakib Raza

Share

"এমন জীবন তুমি করিও গঠন
মরনে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন"

19/08/2026

কবর নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা—যেগুলো মানুষকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়:

কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর মানুষের পরবর্তী জীবন শুরু হয় কবর থেকে।

কবরের জীবন সত্য। ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষ বারযাখের জীবনে প্রবেশ করে।

দুনিয়ার আমলই মূল পাথেয়। টাকা-পয়সা, পদমর্যাদা বা সম্পদ কবরের সঙ্গে যায় না; মানুষের ঈমান ও আমলই তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নেক আমল কবরের জন্য আলো ও প্রশান্তির কারণ। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, সদকা, মানুষের হক আদায় এবং ভালো কাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

গুনাহ থেকে তওবা করা জরুরি। মৃত্যু কখন আসবে কেউ জানে না, তাই তওবা ও সংশোধনকে পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যায়। বিশেষ করে মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা এবং তার পক্ষ থেকে সদকায়ে জারিয়া করা উপকারী আমল।

কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুকে স্মরণ করা, আখিরাতের কথা মনে করা এবং মৃতদের জন্য দোয়া করা—শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো: কবরের কথা মনে রাখলে দুনিয়ার অহংকার কমে এবং নিজের আমল সংশোধনের তাগিদ তৈরি হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন এবং কবরকে আমাদের জন্য শান্তির স্থান বানান। আমিন। 🤲🌸

19/08/2026

প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী, হুজুর পুরনুর রাসূলে صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুন্দর জীবনের মুবারক অবস্থা সমূহের বর্ণনা সম্বলিত মাদানী পুষ্পসম্ভার: “সীরাতে মুস্তফা ﷺ” এখন থেকে সবার জন্য পিডিএফ ফাইল উন্মুক্ত করা হয়েছে।

লেখক: শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা আব্দুল মুস্তফা আযমী رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ
উপস্থাপনায়: আল মদীনাতুল ইলমিয়া বিভাগ (দা’ওয়াতে ইসলামী)।

⚠️ বইটি ডাউনলোড করতে কমেন্ট বক্সে দেয়া লিংকটি ভিজিট করুন।

ভালো নিয়ত সহকারে নিজে পড়ুন এবং অপর ইসলামি ভাইকে পড়ার জন্য উৎসাহিত করুন।

19/08/2026

أَقْوَالُ الْعُلَمَاءِ فِي مَشْرُوعِيَّةِ الِاحْتِفَالِ بِالْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ
(পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের শরয়ী বৈধতা প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরামের বাণীসমূহ)
১. আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ
> «... فَتَعْظِيمُ الْمَوْلِدِ وَاتِّخَاذُهُ مَوْسِمًا قَدْ يَفْعَلُهُ بَعْضُ النَّاسِ وَيَكُونُ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ عَظِيمٌ لِحُسْنِ قَصْدِهِ وَتَعْظِيمِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “...অতএব, মিলাদকে সম্মান প্রদর্শন করা এবং একে একটি মৌসুম হিসেবে গ্রহণ করা—যা কিছু মানুষ করে থাকে—এতে তার উত্তম নিয়ত এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কারণে সে বিরাট সওয়াব লাভ করবে।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪); ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম
>
২. ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামী (রহ.)
> «وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْبِدْعَةَ الْحَسَنَةَ مُتَّفَقٌ عَلَى نَدْبِهَا، وَعَمَلُ الْمَوْلِدِ وَاجْتِمَاعُ النَّاسِ لَهُ كَذَلِكَ؛ أَيْ: بِدْعَةٌ حَسَنَةٌ»
> “সারকথা হলো, বিদ‘আতে হাসানা (উত্তম নতুন রীতি) মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। আর মিলাদের আমল এবং এর জন্য মানুষের একত্রিত হওয়াও তদ্রূপ; অর্থাৎ এটিও একটি বিদ‘আতে হাসানা।”
>
৩. ইমাম আবু শামা (ইমাম নববীর উস্তাদ) (রহ.)
> «وَمِنْ أَحْسَنِ مَا ابْتُدِعَ فِي زَمَانِنَا مَا يُفْعَلُ كُلَّ عَامٍ فِي الْيَوْمِ الْمُوَافِقِ لِيَوْمِ مَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ مِنَ الصَّدَقَاتِ وَالْمَعْرُوفِ وَإِظْهَارِ الزِّينَةِ وَالسُّرُورِ، فَإِنَّ ذَلِكَ مَعَ مَا فِيهِ مِنَ الْإِحْسَانِ لِلْفُقَرَاءِ مُشْعِرٌ بِمَحَبَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَتَعْظِيمِهِ فِي قَلْبِ فَاعِلِ ذَلِكَ، وَشُكْرًا لِلَّهِ عَلَى مَا مَنَّ بِهِ مِنْ إِيجَادِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ الَّذِي أَرْسَلَهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ»
> “আমাদের যুগে উদ্ভাবিত সর্বউত্তম কাজের অন্যতম হলো—প্রতি বছর নবী (সা.)-এর জন্ম দিবসের সাথে মিলিয়ে সদকা করা, নেক আমল সম্পাদন এবং সৌন্দর্য ও আনন্দ প্রকাশ করা। কেননা দরিদ্রদের প্রতি উপকারের পাশাপাশি তা আমলকারীর অন্তরে নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলা যে তাঁর রাসূলকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ অস্তিত্ব দান করেছেন, সেই নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ করে।”
৪. ইমাম আস-সাখাভী (রহ.)
> «لَمْ يَفْعَلْهُ أَحَدٌ مِنَ السَّلَفِ فِي الْقُرُونِ الثَّلَاثَةِ وَإِنَّمَا حَدَثَ بَعْدُ، ثُمَّ لَا زَالَ أَهْلُ الْإِسْلَامِ مِنْ سَائِرِ الْأَقْطَارِ وَالْمُدُنِ يَعْمَلُونَ الْمَوْلِدَ وَيَتَصَدَّقُونَ فِي لَيَالِيهِ بِأَنْوَاعِ الصَّدَقَاتِ وَيَعْتَنُونَ بِقِرَاءَةِ مَوْلِدِهِ الْكَرِيمِ وَيَظْهَرُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَرَكَاتِهِ كُلُّ فَضْلٍ عَمِيمٍ»
> “প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফদের কেউ এটি করেননি, বরং পরবর্তীতে এর প্রচলন ঘটেছে। অতঃপর সকল অঞ্চল ও শহরের মুসলিমগণ মিলাদ উদযাপন করে আসছেন, এর রাতগুলোতে নানা প্রকার সদকা দিয়ে থাকেন, নবীজির সম্মানিত বেলাদতের বিবরণ পাঠে যত্নবান হন এবং এর মাধ্যমে তাঁদের ওপর ব্যাপক বরকত ও অনুগ্রহ প্রকাশ পায়।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪)
৫. ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.)
> «مِنْ خَوَاصِّهِ أَنَّهُ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ بِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ»
> “মিলাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সেই বছরের জন্য একটি নিরাপত্তার মাধ্যম এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের তাৎক্ষণিক সুসংবাদ।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪)
৬. ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)
> «هُوَ مِنَ الْبِدَعِ الْحَسَنَةِ الَّتِي يُثَابُ عَلَيْهَا صَاحِبُهَا لِمَا فِيهِ مِنْ تَعْظِيمِ قَدْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَإِظْهَارِ الْفَرَحِ وَالِاسْتِبْشَارِ بِمَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ»
> “এটি এমন উত্তম নতুন রীতির (বিদ‘আতে হাসানা) অন্তর্ভুক্ত যার ওপর আমলকারী সওয়াব লাভ করবে; কারণ এতে নবী (সা.)-এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর শুভ জন্ম উপলক্ষে আনন্দ ও সুসংবাদ প্রকাশ বিদ্যমান রয়েছে।”
> — আল-হাবী লিল ফাতাওয়া (১/২৯২)
> «يُسْتَحَبُّ لَنَا إِظْهَارُ الشُّكْرِ بِمَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَالِاجْتِمَاعُ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَنَحْوُ ذَلِكَ مِنْ وُجُوهِ الْقُرُبَاتِ وَإِظْهَارِ الْمَسَرَّاتِ»
> “আমাদের জন্য নবী (সা.)-এর শুভ জন্ম উপলক্ষে শুকরিয়া প্রকাশ করা, একত্রিত হওয়া, খানা খাওয়ানো এবং আনন্দ প্রকাশের মতো বিভিন্ন নৈকট্যপূর্ণ ভালো কাজ করা মুস্তাহাব।”
> — আল-হাবী লিল ফাতাওয়া (১/১৯৬)
> «مَا مِنْ بَيْتٍ أَوْ مَحَلٍّ أَوْ مَسْجِدٍ قُرِئَ فِيهِ مَوْلِدُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَفَّتِ الْمَلَائِكَةُ أَهْلَ ذَلِكَ الْمَكَانِ وَعَمَّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ»
> “যে ঘর, স্থান বা মসজিদে নবী (সা.)-এর মিলাদ পাঠ করা হয়, ফেরেশতারা সেই স্থানের অধিবাসীদের বেষ্টন করে নেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করে দেন।”
> — আল-ওয়াসাইল ফী শারহিল মাসাইল
৭ ও ৮. ইমাম ইবনুল হাজ্জ আল-মালিকী (রহ.)
> «فَكَانَ يَجِبُ أَنْ نَزْدَادَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِيَ عَشَرَ فِي رَبِيعٍ الْأَوَّلِ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَالْخَيْرِ شُكْرًا لِلْمَوْلَى عَلَى مَا أَوْلَانَا مِنْ هَذِهِ النِّعَمِ الْعَظِيمَةِ وَأَعْظَمُهَا مِيلَادُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “আমাদের ওপর আল্লাহর দেওয়া এই মহান নিয়ামতসমূহের—যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মুস্তফা (সা.)-এর বেলাদত—শুকরিয়া হিসেবে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবারে আমাদের ইবাদত ও নেক কাজ আরও বৃদ্ধি করা উচিত ছিল।”
> — আল-মাদখাল (১/৩৬১)
> «وَمِنْ تَعْظِيمِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ الْفَرَحُ بِلَيْلَةِ وِلَادَتِهِ وَقِرَاءَةُ الْمَوْلِدِ»
> “আর নবী (সা.)-কে সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম একটি দিক হলো তাঁর জন্মলগ্নের রাতে আনন্দ প্রকাশ করা এবং মিলাদ পাঠ করা।”
> — আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ (পৃ. ১৯০)
৯. হাফেজ আব্দুর রাহীম আল-ইরাকী (রহ.)
> «إِنَّ اتِّخَاذَ الْوَلِيمَةِ وَإِطْعَامَ الطَّعَامِ مُسْتَحَبٌّ فِي كُلِّ وَقْتٍ، فَكَيْفَ إِذَا انْضَمَّ إِلَى ذَلِكَ الْفَرَحُ وَالسُّرُورُ بِظُهُورِ نُورِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الشَّهْرِ الشَّرِيفِ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِهِ بِدْعَةً كَوْنُهُ مَكْرُوهًا؛ فَكَمْ مِنْ بِدْعَةٍ مُسْتَحَبَّةٍ بَلْ قَدْ تَكُونُ وَاجِبَةً»
> “ওয়ালিমা ও খানা খাওয়ানোর আয়োজন করা সর্বদাই মুস্তাহাব; তাহলে এই সম্মানিত মাসে নবী (সা.)-এর নূরের আবির্ভাবের আনন্দ এতে যুক্ত হলে কেমন হতে পারে?! আর কোনো বিষয় নতুন (বিদ‘আত) হলেই তা মাকরূহ হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ কত বিদ‘আতই তো মুস্তাহাব, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তা ওয়াজিবও হতে পারে।”
> — শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ লিজ-যারকানী
>
১০. শায়খুল ইসলাম হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.)
> «أَصْلُ عَمَلِ الْمَوْلِدِ بِدْعَةٌ لَمْ تُنْقَلْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ السَّلَفِ الصَّالِحِ مِنَ الْقُرُونِ الثَّلَاثَةِ، وَلَكِنَّهَا مَعَ ذَلِكَ قَدِ اشْتَمَلَتْ عَلَى مَحَاسِنَ وَضِدِّهَا، فَمَنْ تَحَرَّى فِي عَمَلِهَا الْمَحَاسِنَ وَجَنَّبَ ضِدَّهَا كَانَ بِدْعَةً حَسَنَةً وَإِلَّا فَلَا. وَقَدْ ظَهَرَ لِي تَخْرِيجُهَا عَلَى أَصْلٍ ثَابِتٍ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَسَأَلَهُمْ، فَقَالُوا: هُوَ يَوْمٌ أَغْرَقَ اللَّهُ فِيهِ فِرْعَوْنَ وَنَجَّى مُوسَى فَنَحْنُ نَصُومُهُ شُكْرًا لِلَّهِ تَعَالَى؛ فَيُسْتَفَادُ مِنْهُ الشُّكْرُ لِلَّهِ عَلَى مَا مَنَّ بِهِ فِي يَوْمٍ مُعَيَّنٍ مِنْ إِسْدَاءِ نِعْمَةٍ أَوْ دَفْعِ نِقْمَةٍ، وَيُعَادُ ذَلِكَ فِي نَظِيرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ مِنْ كُلِّ سَنَةٍ، وَالشُّكْرُ لِلَّهِ يَحْصُلُ بِأَنْوَاعِ الْعِبَادَةِ كَالسُّجُودِ وَالصِّيَامِ وَالصَّدَقَةِ وَالتِّلَاوَةِ، وَأَيُّ نِعْمَةٍ أَعْظَمُ مِنَ النِّعْمَةِ بِبُرُوزِ هَذَا النَّبِيِّ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ؟ وَعَلَى هَذَا فَيَنْبَغِي أَنْ يُقْتَصَرَ فِيهِ عَلَى مَا يُفْهِمُ الشُّكْرَ لِلَّهِ تَعَالَى مِنَ التِّلَاوَةِ وَالْإِطْعَامِ وَإِنْشَادِ شَيْءٍ مِنَ الْمَدَائِحِ النَّبَوِيَّةِ الْمُحَرِّكَةِ لِلْقُلُوبِ إِلَى فِعْلِ الْخَيْرِ وَالْعَمَلِ لِلْآخِرَةِ، وَأَمَّا مَا يَتْبَعُ ذَلِكَ مِنَ السَّمَاعِ وَاللَّهْوِ وَغَيْرِ ذَلِكَ فَيَنْبَغِي أَنْ يُقَالَ: مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ مُبَاحًا بِحَيْثُ يَقْتَضِي السُّرُورَ بِذَلِكَ الْيَوْمِ لَا بَأْسَ بِإِلْحَاقِهِ بِهِ، وَمَا كَانَ حَرَامًا أَوْ مَكْرُوهًا فَيُمْنَعُ، وَكَذَا مَا كَانَ خِلَافَ الْأَوْلَى»
> “মিলাদের মূল ভিত্তি একটি বিদ‘আত, যা প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফে সালেহীনের কারও থেকে বর্ণিত হয়নি। তবে তা সত্ত্বেও এতে যেমন ভালো কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তেমনি এর বিপরীত কিছু বিষয়ও রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে ভালো কাজগুলোর অনুসরণ করবে এবং এর বিপরীত বিষয়গুলো বর্জন করবে, তবে তা বিদ‘আতে হাসানা হবে, অন্যথায় নয়।
> আর এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ী মূলনীতির ওপর স্থাপন করা আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে; তা হলো সহীহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) প্রমাণিত রয়েছে যে, নবী (সা.) যখন মদিনায় আসলেন, তখন ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: ‘এটি এমন এক দিন যেদিন আল্লাহ ফেরাউনকে ডুবিয়েছিলেন এবং মূসাকে রক্ষা করেছিলেন; তাই আমরা আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে এই দিন রোজা রাখি।’
> এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে কোনো বিশেষ নিয়ামত দান বা বিপদ দূরীকরণের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যায় এবং প্রতি বছর সেই নির্দিষ্ট দিনে এর পুনরাবৃত্তি করা যায়। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে হয়ে থাকে—যেমন সিজদা, রোজা, সদকা ও তিলাওয়াত। আর এই দিনে রহমতের নবী হিসেবে বিশ্বনবীর আবির্ভাবের চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে?!
> অতএব, এতে যা করা উচিত তা হলো: যেসব কাজে আল্লাহর শুকরিয়া প্রকাশ পায় কেবল সেগুলোর মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রাখা—যেমন তিলাওয়াত, খানা খাওয়ানো এবং নবীজির প্রশংসামূলক এমন কিছু কাব্য আবৃত্তি করা যা হৃদয়কে নেক কাজ ও আখিরাতের আমলের প্রতি আলোড়িত করে। আর এর অনুগামী যেসব গান-বাজনা ও বিনোদন রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে বলা যায়: যা আনন্দ প্রকাশের জন্য মুবাহ (বৈধ) সীমার মধ্যে থাকবে তা যুক্ত করতে অসুবিধা নেই; আর যা হারাম বা মাকরূহ হবে তা নিষিদ্ধ হবে, তেমনি যা অনুত্তম (খেলাফে আওলা) তাও বর্জনীয়।”
> — আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (১/১৯৬)

১১. আল্লামা ইবনে আবেদীন আশ-শামী (রহ.)
> «اعْلَمْ أَنَّ مِنَ الْبِدَعِ الْمَحْمُودَةِ عَمَلَ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ مِنَ الشَّهْرِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “জেনে রাখুন, নবী (সা.) যে মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন সে মাসে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা প্রশংসনীয় বিদ‘আতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।”

> «فَالِاجْتِمَاعُ لِسَمَاعِ قِصَّةِ صَاحِبِ الْمُعْجِزَاتِ عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَّلَوَاتِ وَأَكْمَلُ التَّحِيَّاتِ مِنْ أَعْظَمِ الْقُرُبَاتِ لِمَا يَشْتَمِلُ عَلَيْهِ مِنَ الْمُعْجِزَاتِ وَكَثْرَةِ الصَّلَوَاتِ»
> “মুজিযার অধিকারীর (নবীজির) জীবনী শোনার জন্য একত্রিত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভের মাধ্যম; কারণ এতে মুজিযাসমূহ এবং প্রচুর পরিমাণে দরূদ পাঠের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।”
> — শারহু মাওলিদি ইবনে হাজার

১২. শায়খ হাসানাইন মুহাম্মদ মাখলুফ (রহ.)
> «إِنَّ إِحْيَاءَ لَيْلَةِ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ وَلَيَالِي هَذَا الشَّهْرِ الْكَرِيمِ الَّذِي أَشْرَقَ فِيهِ النُّورُ الْمُحَمَّدِيُّ إِنَّمَا يَكُونُ بِذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَشُكْرِهِ لِمَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ ظُهُورِ خَيْرِ الْخَلْقِ إِلَى عَالَمِ الْوُجُودِ، وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِلَّا فِي أَدَبٍ وَخُشُوعٍ وَبُعْدٍ عَنِ الْمُحَرَّمَاتِ وَالْبِدَعِ وَالْمُنْكَرَاتِ، وَمِنْ مَظَاهِرِ الشُّكْرِ عَلَى حُبِّهِ مُوَاسَاةُ الْمُحْتَاجِينَ بِمَا يُخَفِّفُ ضَائِقَتَهُمْ وَصِلَةُ الْأَرْحَامِ، وَالْإِحْيَاءُ بِهَذِهِ الطَّرِيقَةِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَأْثُورًا فِي عَهْدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَلَا فِي عَهْدِ السَّلَفِ الصَّالِحِ إِلَّا أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ وَسُنَّةٌ حَسَنَةٌ»
> “মিলাদুন্নবীর রাত এবং এই সম্মানিত মাসের রাতগুলো—যে মাসে মুহাম্মদী নূর উদ্ভাসিত হয়েছিল—উদযাপনের মাধ্যম হলো আল্লাহর জিকির এবং সৃষ্টির সেরা মানবের শুভাগমনে এই উম্মত যে নিয়ামত লাভ করেছে তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। আর তা হতে হবে কেবল আদব ও একাগ্রতার সাথে এবং যাবতীয় হারাম, বিদ‘আত ও পাপাচার বর্জনের মাধ্যমে। নবীপ্রেমের শুকরিয়ার অংশ হলো অভাবীদের দুর্দশা লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা। এই পন্থায় পালন করা যদিও নবীজি (সা.) ও সালাফে সালেহীনের যুগে প্রচলিত ছিল না, তবুও এতে কোনো দোষ নেই এবং এটি একটি সুন্নাতুল হাসানা (উত্তম রীতি)।”
> — ফাতাওয়া শারইয়্যাহ (১/১৩১)

১৩. শায়খ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লী আশ-শাওরাভী (রহ.)
> «وَإِكْرَامًا لِهَذَا الْمَوْلِدِ الْكَرِيمِ فَإِنَّهُ يَحِقُّ لَنَا أَنْ نُظْهِرَ مَعَالِمَ الْفَرَحِ وَالِابْتِهَاجِ بِهَذِهِ الذِّكْرَى الْحَبِيبَةِ لِقُلُوبِنَا كُلَّ عَامٍ، وَذَلِكَ بِالاحْتِفَالِ بِهَا مِنْ وَقْتِهَا...»
> “এই সম্মানিত জন্ম উপলক্ষে আমাদের অন্তরের প্রিয় এই স্মৃতিতে প্রতি বছর যথাসময়ে উদযাপনের মাধ্যমে আনন্দ ও প্রফুল্লতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো আমাদের জন্য সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ...।”
> — আলা মাইদাতিল ফিকরিল ইসলামী (পৃ. ২৯৫)

১৪. শায়খ আল-মুবাশশির আত-তিরাযী (রহ.)
> «إِنَّ الِاحْتِفَالَ بِذِكْرَى الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ أَصْبَحَ وَاجِبًا أَسَاسِيًّا لِمُوَاجَهَةِ مَا اسْتَجَدَّ مِنَ الِاحْتِفَالَاتِ الضَّارَّةِ فِي هَذِهِ الْأَيَّامِ»
> “বর্তমান যুগে যেসব ক্ষতিকর উৎসবের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর মোকাবিলার জন্য পবিত্র মিলাদুন্নবীর স্মৃতি উদযাপন করা একটি মৌলিক ওয়াজিবে পরিণত হয়েছে।”

18/08/2026
17/08/2026

সুয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী। যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ জন্মগ্রহণ করেন, তখন সুয়াইবা দৌড়ে গিয়ে আবু লাহাবকে এই সুসংবাদ দেন। নিজের ভাতিজা জন্মের খবরে আনন্দিত হয়ে আবু লাহাব আঙুলের ইশারায় সুয়াইবাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে দেয়। এই খুশির কারণে প্রতি সোমবার (নবীজীর জন্মের দিন) জাহান্নামে আবু লাহাবের শাস্তি কিছুটা কমানো হয় এবং সে ওই আঙুলের ছিদ্র থেকে পানি পায়।

সহীহ বুখারীর কিতাবুন নিকাহ অধ্যায়ের ৫১০১ নম্বর হাদিসে উরওয়া ইবনে যুবাইর رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ থেকে থেকে বর্ণিত:

বর্ণনায় এসেছে, আবু লাহাবের মৃত্যুর পর তার পরিবারের একজন (যিনি মূলত রাসুলুল্লাহ ﷺ এর চাচা হযরত আব্বাস رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ছিলেন) তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত খারাপ ও কষ্টদায়ক অবস্থায় দেখেন। তিনি আবু লাহাবকে জিজ্ঞেস করেন, মৃত্যুর পর তোমার কী অবস্থা হলো? আবু লাহাব উত্তরে বলে, তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি কোনো শান্তি বা কল্যাণ পাইনি। তবে সুয়াইবাকে আজাদ করার কারণে আমাকে এই জায়গা থেকে (বৃদ্ধাঙ্গুলির নিচে একটি ছোট গর্তের দিকে ইশারা করে) সামান্য পানি পান করানো হয়।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ এবং শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবু লাহাবের মতো একজন কট্টর কাফির যার চিরস্থায়ী জাহান্নামের ঘোষণায় কুরআনে পূর্ণ একটি সূরা নাযিল হয়েছে, সেও যদি নবীজীর ﷺ শুভাগমনে খুশি হওয়ার কারণে প্রতি সোমবার আযাব থেকে কিছুটা রেহাই পায়, তবে একজন মুমিন মুসলমান যখন ভালোবেসে আনন্দচিত্তে নবীজীর ﷺ মিলাদ উদযাপন করবেন এবং খুশি প্রকাশ করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে কতই না উত্তম প্রতিদান দেবেন।

তথ্যসূত্র:

হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহ:
১. সহীহ বুখারী: কিতাবুন নিকাহ অধ্যায়, হাদিস নম্বর ৫১০১।
২. মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৯ম খণ্ড, ৯ পৃষ্ঠা, হাদিস নম্বর ১৬৬৬১।
৩. দালায়েলুন নুবুওয়াত: ইমাম বায়হাকী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ তার এই বিখ্যাত সিরাত গ্রন্থেও ঘটনাটি এনেছেন।

হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা শরাহ:
১. ফাতহুল বারী: এটি সহীহ বুখারীর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ এখানে ঘটনাটির বিস্তারিত আলোচনা করেছেন (৯ম খণ্ড, ১৪৫ পৃষ্ঠা)।
২. উমদাতুল কারী: আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ তার এই কিতাবেও এটি উল্লেখ করেছেন (খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪৪)।

সিরাত ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাব:
১. মাদারিজুন্নবুওয়াত: সায়্যিদুনা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ এই ঘটনার আলোকে মিলাদ শরীফের গুরুত্ব চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন (২য় খণ্ড, ১৯ পৃষ্ঠা)।
২. আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ: ইমাম কাসতাল্লানী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ তার কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
৩. সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ: ইমাম সালিহী আশ শামী رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ মিলাদ অধ্যায়ে এই ঘটনা দিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন যে নবীজীর ﷺ আগমনে খুশি প্রকাশ করলে অনেক সওয়াব ও ফায়দা পাওয়া যায়।

07/08/2026

প্রিয় নবীর সম্মান, ঈমানের নিদর্শন।

05/08/2026

ফাতাওয়ায়ে রাযভিয়্যার পরিচিতি

ফাতাওয়া রাযভিয়্যা হলো ফিকহে হানাফীর আলোকে আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) প্রদত্ত হাজারো ফতোয়ার সুবিশাল সংকলন। ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারে এ অমূল্য গ্রন্থসম্ভারকে "ফিকহে হানাফীর বিশ্বকোষ" (Encyclopedia of Hanafi Fiqh) বলা হয়।

এর পূর্ণ নাম "আল-আত্বায়া আন-নাবাবিয়্যাহ ফিল ফাতাওয়ার রাযভিয়্যাহ"। সংক্ষেপে এটি ফাতাওয়ায়ে রাযভিয়্যা নামে সুপরিচিত।

তাখরীজকৃত ৩৩টি খণ্ডে সংকলিত এ গ্রন্থে মোট ৬,৮৪৭টি প্রশ্নের উত্তর এবং আ'লা হযরত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ২০৬টি রিসালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিটি ফতোয়ায় সর্বপ্রথম পবিত্র কুরআনের আয়াত, এরপর হাদীস শরীফের দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি হানাফি ফকীহদের অসংখ্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ থেকে প্রামাণ্য উদ্ধৃতি সংযোজিত হয়েছে। তবে তিনি কেবল উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং গভীর গবেষণা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং বহু নতুন ইজতিহাদি দিকও এতে সংযোজন করেছেন।

ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি আপন-পর, পরিচিত-অপরিচিত কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেননি। বরং কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহি গবেষণার আলোকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তা নির্ভীকভাবে প্রকাশ করেছেন। একটি মাত্র মাসআলার প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য কখনও কখনও শতাধিক দলিল ও গ্রন্থ-উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করেছেন।

ফাতাওয়া রাযভিয়্যার বৈশিষ্ট্য
উপরোক্ত গুণাবলির পাশাপাশি ফাতাওয়া রাযভিয়্যার আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—

১. হাদীসশাস্ত্র ও ইসলামী ফিকহের অসংখ্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডার এতে সংরক্ষিত রয়েছে।
২. দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য বহু সূত্র ও গ্রন্থ-উদ্ধৃতি যথাযথভাবে স্থান পেয়েছে।
৩. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উদ্ভূত নতুন নতুন মাসআলার গবেষণামূলক সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে।
৪. গণিত, ইলমে তাওকীত (সময় নির্ধারণের শাস্ত্র) এবং মীরাস (উত্তরাধিকার আইন) সম্পর্কেও অসাধারণ ও বিরল গবেষণা এতে বিদ্যমান।
৫. প্রতিটি মাসআলায় কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
৬. বিদআত ও শরীয়তবিরোধী নানা মতবাদ ও কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী, দলিলভিত্তিক এবং ঈমান-উদ্দীপক জবাব প্রদান করা হয়েছে।
৭. সর্বোপরি, আজও বহু প্রখ্যাত মুফতি জটিল ফিকহি মাসআলার সমাধানে ফাতাওয়া রাযভিয়্যার শরণাপন্ন হন। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁরা এ গ্রন্থ থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হন এবং ইন শা আল্লাহ ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

ফাতাওয়া রাযভিয়্যা কেবল একটি ফতোয়ার সংকলন নয়; বরং এটি কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহে হানাফীর আলোকে গবেষণা, দলিল ও প্রজ্ঞার এক অনন্য বিশ্বকোষ।

Category

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Muhammad Rakib Raza posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Subscribe

We will notify you when anything happens in Chittagong.