Fly Baitullah
পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদীনায় শরীয়তসম্মত ভাবে হজ এবং উমরাহ করানোর ক্ষেত্রে আমরা বদ্ধপরিকর
28/07/2026
এক অতি গুনাহগার ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে কাবার গিলাফ ধরে এভাবে দোয়া করছিলেন:
"হে আল্লাহ! এই ঘরের জিয়ারতকে 'হজ' বলা হয়। আর এই 'হজ' (حج) শব্দে দুটি অক্ষর আছে। 'হা' (ح) দিয়ে তোমার হুকুম (আদেশ) আর 'জিম' (ج) দিয়ে আমার জুরম (গুনাহ/অপরাধ) বোঝায়।
হে মাবুদ! তুমি তোমার হুকুমের বরকতে আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও।"
অদৃশ্য থেকে আওয়াজ এলো, "হে আমার বান্দা! তুমি কত সুন্দর আকুতি জানালে! আবারও বলো..."
সে ব্যক্তি তখন নতুন ভঙ্গিতে বলতে শুরু করল,
"হে আমার ক্ষমাশীল প্রভু! হে গাফফার! তোমার ক্ষমার দরিয়া গুনাহগারদের মাফ করার জন্য উথাল-পাথাল করছে, আর তোমার রহমতের ভাণ্ডার প্রতিটি প্রার্থনাকারীর জন্য খোলা।
হে ইলাহি! এই ঘরের জিয়ারতকে 'হজ' বলে। হজে দুটি অক্ষর আছে —'হা' এবং 'জিম'। 'হা' দিয়ে আমার হাজত (প্রয়োজন) আর 'জিম' দিয়ে তোমার জূদ-ও-করম (দান ও দয়া) বোঝায়। তুমি তোমার অসীম দয়ায় এই নিঃস্ব বান্দার প্রয়োজন পূরণ করে দাও।"
আবারও আওয়াজ এলো,
"হে আমার বান্দা! তুমি কী চমৎকার প্রশংসা করলে! আবারও বলো..."
সে আবার আরজ করল, "হে মহাবিশ্বের স্রষ্টা! তোমার সত্তা প্রতিটি দোষ ও দুর্বলতা থেকে পবিত্র। তুমি মুসলমানদের ওপর তোমার ক্ষমার পর্দা ঢেকে রেখেছ।
হে আমার রব! হজের দুই অক্ষরের মধ্যে 'হা' দিয়ে যদি আমার হালাওয়াত-এ-ঈমানি (ঈমানের মিষ্টতা) আর 'জিম' দিয়ে তোমার জালাল (মহিমা) বোঝায়—তবে তোমার মহিমার উসিলায় এই দুর্বল বান্দার ঈমানের মিষ্টতাকে শয়তান থেকে রক্ষা করো।"
তখন আওয়াজ এলো,
"হে আমার পরম অনুগত ও সত্যবাদী বান্দা! তুমি আমার হুকুম, আমার দয়া এবং আমার মহিমার উসিলায় যা কিছু চেয়েছ, আমি তোমাকে তা দান করলাম। আমার কাজই হলো প্রার্থনাকারীর ঝুলি ভরে দেওয়া, কিন্তু কথা হলো — সঠিকভাবে চাওয়ার মতো কেউ কি আছে?"
হে আল্লাহ! আমাদের মতো গুনাহগারদের চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি ও তাওফিক দান করুন। আমিন
উর্দূ আর্টিকেল থেকে অনূদিত।
কেন আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবাসি…
রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কেন ভালোবাসি—তার কারণ অগণিত। লিখে শেষ করা যাবে না।
সাহাবিগণ তো এমনি এমনি বলতেন না—
“ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি, ইয়া রাসুলুল্লাহ!”
(হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক।)
তাঁরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে দেখেছেন, তাঁর সঙ্গে চলেছেন, তাঁর পাশে থেকেছেন। তাঁর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি আচরণের সঙ্গে তাঁরা সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই তাঁদের ভালোবাসা ছিল ঈমানের মানদণ্ড।
আর আমরা?
আমরা রাসুল ﷺ-কে দেখিনি, তিনিও আমাদেরকে দুনিয়াতে দেখেননি।
তবুও তিনি আমাদের কথা বলেছেন।
তবুও তিনি আমাদের ভালোবেসেছেন।
তবুও তিনি আমাদেরকে “ভাই” বলে ডেকেছেন।
আল্লাহ ﷻ প্রত্যেক নবীকে একটি করে নিশ্চিত কবুল হওয়া দুআর সুযোগ দিয়েছিলেন। সকল নবী তাঁদের জীবদ্দশায় সেই দুআ করে নিয়েছেন।
কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ সেই দুআ করেননি।
চাইলে তিনি তাঁর প্রিয় চাচা আবু তালিবের ঈমানের জন্য দুআ করতে পারতেন।
চাইলে হিজরত ছাড়াই মক্কা বিজয়ের জন্য দুআ করতে পারতেন।
চাইলে যুদ্ধ, কষ্ট ও ত্যাগ ছাড়াই ইসলামের বিজয় কামনা করতে পারতেন।
কিন্তু তিনি তা করেননি।
নিজের জন্য নয়।
নিজের পরিবারের জন্য নয়।
এমনকি সাহাবিদের জন্যও নয়।
তিনি সেই দুআকে সঞ্চয় করে রেখেছেন সেই ভয়াবহ দিনের জন্য—যেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না।
সেই দিন তিনি তাঁর উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন।
সুপারিশ করতে করতে তাঁর উম্মতদের জান্নাতে পৌঁছে দিতে চাইবেন।
যে নবীর ভালোবাসা তাঁর উম্মতের প্রতি এত গভীর, এত নিঃস্বার্থ, এত অকৃত্রিম—
সেই নবীকে ভালোবাসার জন্য আর কী কারণ লাগে?
আমরা তাঁকে দেখিনি, কিন্তু তিনি আমাদের কথা ভোলেননি।
اللهم صل وسلم وبارك على نبينا محمد ﷺ
আসসালামু আলাইকুম
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Natore
6400