Ahasan Razib

Ahasan Razib

Share

Coast Warriors

17/06/2026

দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় আমার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পাঠকের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মোস্তফা মামুন ভাইকে আধুনিক ও গ্রাফিক্সসমৃদ্ধ এই পত্রিকায় কাজের সুযোগ এবং দিকনির্দেশনার জন্য। একই সাথে সহযোগিতা ও উৎসাহের জন্য আমাদের ক্যাপ্টেন, মফস্বল সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক আবুল হাসান হৃদয় ভাই এবং প্রিয় রুমি ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

06/06/2026

ছোট্ট এই জেলা শহর সাতক্ষীরার কোনো এক কোণে বসে যখন টেলিভিশনের পর্দায় দুই মিনিটের একটা রিপোর্ট ভেসে ওঠে, কিংবা পত্রিকার পাতায় জ্বলজ্বল করে একটা বাইলাইন, তখন অনেকেই ভাবেন, কাজটা কত সহজ! কত সাবলীল! কিন্তু পর্দার পেছনের গল্পটা চশমার কাঁচ দিয়ে দেখা যায় না। কেউ হঠাৎ করেই এক সকালে ঘুম থেকে উঠে "উপকূল, পরিবেশ কিংবা জলবায়ু সাংবাদিক" হয়ে যায় না। এই পরিচয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকে বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে মাইলের পর মাইল কাদামাটি মাখানো মাঠে পড়ে থাকার গল্প; থাকে চেনা স্বাচ্ছন্দ্যের নিরাপদ দেয়াল ভেঙে অচেনার উদ্দেশ্যে, অনিশ্চয়তার দিকে ছুটে চলার এক অদ্ভুত নেশা।

গত ১৪টি বছর ধরে আমি কেবল চার দেয়ালের ঘরে বসে, ডেস্কে বসে অন্যের পাঠানো তথ্যে খবর লিখিনি। আমি ছুটে চলেছি এই দেশের স্পন্দন যেখানে লুকিয়ে আছে, সেই প্রত্যন্ত উপকূল, দুর্গম পাহাড় আর উত্তাল সাগরে। কিতাবি বিদ্যার বাইরে গিয়ে নিজের চোখে বাস্তবতাকে দেখেছি, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটেছি, প্রকৃতির রুদ্ররূপ থেকে পাঠ নিয়েছি। প্রান্তিক মানুষের সাথে মিশেছি পরম আত্মীয়তায়, তাদের বুকফাটা আর্তনাদ আর লড়াইয়ের আখ্যান শুনেছি তাদের নিজেদের মুখেই। আজ এতগুলো বছর পরেও, আমি ঠিক একই ক্লান্তিহীন পথযাত্রী হয়ে ধুলোবালির পথেই হেঁটে যাচ্ছি।

পেশাগত তাগিদে আর প্রকৃতির টানে আমার পায়ের ছাপ পড়েছে এই ভূখণ্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সিকিমের তিস্তার প্রখর ও অবাধ্য ধারা থেকে শুরু করে বরিশালের মেঘনার বুক কাঁপানো উত্তাল মোহনা; বান্দরবানের মেঘ-ছোঁয়া দুর্গম পাহাড় থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের গহীন, শ্বাপদসংকুল অরণ্য। এই দেশের শুরু থেকে শেষ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথারিয়া; মোটামুটি সব প্রান্তেই মিশে আছে আমার ঘাম আর শ্রম। শুধু নিজের দেশের সীমানায় আটকে থাকেনি এই যাযাবর জীবন; সীমান্তের ওপারে প্রতিবেশী ভারতের সিকিম ও দার্জিলিংয়ের বুক কাঁপানো পাহাড়ি খাঁদ থেকে শুরু করে সুদূর দক্ষিণের গঙ্গাসাগরের মোহনা (সাগর দ্বীপ) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল আমার এই অবিরাম পথচলা।

এই দীর্ঘ দেড় দশকের কাছাকাছি সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে নির্মম ও নিষ্ঠুর রূপ আমি দেখেছি, তা শিউরে ওঠার মতো। আজ অকপটে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, যদি আর্থিক সামর্থ্য আরও থাকত, তবে পৃথিবীর এই ক্ষতগুলোকে আরও কাছ থেকে দেখতাম, ক্যামেরার ফ্রেমে আর কলমের কালিতে বন্দি করতাম। আগামীতে যদি সুযোগ আসে, আমি আবারও ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়ব। যতদিন এই নশ্বর শরীরে প্রাণ আছে, চোখে দৃষ্টি আছে, আমি প্রকৃতির এই রূপান্তর দেখে যাবো।

আমার কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, নেই কোনো অঢেল সেভিংস। সাংবাদিকতা নামক এই অনিশ্চিত ও কণ্টকাকীর্ণ পেশাটিই আমার একমাত্র আয়ের উৎস। মধ্যবিত্তের টানাপোড়েনের সংসারে সব খরচ মিটিয়ে, দিনশেষে যে সামান্যটুকু অবশিষ্ট থাকে, তা জমিয়েই আমি বেরিয়ে পড়ি প্রকৃতির সন্ধানে। আমার কোনো বড় কর্পোরেট স্পন্সর নেই; কোনো এনজিও বা আন্তর্জাতিক ডোনার আমার এই ছুটে চলায় এক পয়সারও আর্থিক সহযোগিতা করে না। কোনো লোভ বা মোহের টানে নয়, সম্পূর্ণ নিজের তাড়নায়, নিজের চেষ্টায় একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য প্রকৃতির খোঁজে আমি বারবার ঘর ছাড়ি। কারণ, আমি এই প্রকৃতিকে ভালোবেসেছি নিঃশর্তভাবে।

আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি উপকূলের তৃষ্ণার্ত মানুষের নোনা পানির সাথে বেঁচে থাকার অবিরাম যুদ্ধ; দেখেছি চরের সহায়-সম্বলহীন মানুষের নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হওয়ার কান্না, আর পাহাড়ের বুক চিরে বাস্তুসংস্থানের বদলে যাওয়া করুণ রূপ। এই শিক্ষা আমি কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের বইয়ের পাতা উল্টে শিখিনি; শিখেছি প্রকৃতির রুদ্ররূপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, বাস্তুচ্যুত সেই প্রান্তিক মানুষের কাঁধে হাত রেখে।

জলবায়ু আর পরিবেশ নিয়ে আমার এই লড়াইটা কোনো সাময়িক আবেগের নাম নয়, এটি দীর্ঘ ১৪ বছরের এক অবিরাম সাধনা, এক নীরব আত্মত্যাগ। প্রকৃতির এই নীরব ভাষা আর অবহেলিত মানুষের অধিকারের কথা আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এভাবেই বলে যেতে চাই।

প্রকৃতির এই অন্তহীন যাত্রায় আপনাদের সবার দোয়া আর ভালোবাসা আমার পাথেয়।

26/05/2026
15/05/2026

আম আর আম

15/05/2026
14/05/2026

গত ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে এটা আমার করা সেরা রিপোর্ট।

13/05/2026

সুন্দরবনের মৌয়াল

01/05/2026

সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ 🌿 | কম খরচে সুন্দরবন যাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড | Sundarban Travel Guide

সুন্দরবন যেতে চান? কিন্তু রুট, খরচ ও ভ্রমণের তথ্য জানেন না?
এই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণের সহজ উপায়, যাতায়াত, দর্শনীয় স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। 🌿🐅

ভিডিওতে থাকছে—
✅ সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার রুট
✅ ট্রলার ও নৌযাত্রার অভিজ্ঞতা
✅ উপকূলের প্রকৃতি ও নদীর সৌন্দর্য
✅ ভ্রমণ খরচ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ
✅ সুন্দরবন ভ্রমণের বাস্তব চিত্র

প্রকৃতি, নদী আর ম্যানগ্রোভ বনের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পুরো ভিডিওটি দেখুন।
ভিডিও ভালো লাগলে শেয়ার করুন ও ফলো দিয়ে সাথে থাকুন। ❤️

#সুন্দরবন #সাতক্ষীরা #ভ্রমণ #বাংলাদেশ_ভ্রমণ #সুন্দরবন_ভ্রমণ #ট্রাভেল_ভ্লগ #উপকূল

01/05/2026

দেশের প্রান্তিক এক ভূগোলে নির্বাসিতের মতো পড়ে আছি,
ক্ষুধা নিবারণের অনাড়ম্বর উপকরণ ডাল-ভাতেই কোনোমতে টিকে থাকে দেহের প্রজাতন্ত্র।
তবু অন্তর্গত স্বপ্নেরা এখনো আত্মসমর্পণ শেখেনি;
প্রতিদিন জীবন নামক অনিবার্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে লিখে যাই অস্তিত্বের গোপন দিনলিপি।

যাদের একদিন বৃহত্তর ছায়া ভেবে নির্ভর করেছিলাম,
সেই বড় ভাইয়েরাও এখন আর জানতে চায় না,
কেমন আছি, কতটা ভাঙছি, কিংবা কত রাত নির্ঘুম কাটে।

সময়ের নির্মম গতি মানুষকে শুধু দূরেই সরায় না,
স্মৃতির ভেতর থেকেও ধীরে ধীরে মুছে ফেলে।
তবু হৃদয়ের কোনো নীরব উপকূলে আজও
অপেক্ষা নামের এক জীর্ণ প্রদীপ নিভতে চায় না।
তিনি ফিরবেন,
কোনো এক অনির্দিষ্ট গোধূলিতে,
সময়ের সমস্ত নিষ্ঠুরতা ও দূরত্ব অতিক্রম করে আবারও ডাকবেন নাম ধরে। তারপর নদীর ওপার থেকে ভেসে আসবে সেই বহু প্রতীক্ষিত উচ্চারণ, “ঐ যে… গাবুরার লা এসে গেছে!”

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Satkhira?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address

Satkhira