Freelancer Jobayer

Freelancer Jobayer

Share

সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার।

16/08/2026

কাউকে টাকা ধার দিয়েছেন? জানেন, প্রতিদিন কত বড় সওয়াব পাচ্ছেন?

কখনো কি ভেবে দেখেছেন—আপনার কাছে থাকা কিছু টাকা হয়তো কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টা পার করে দিতে পারে?

হয়তো একজন ভাই চিকিৎসার জন্য টাকা খুঁজছেন।
হয়তো কারও ঘরে বাজার নেই।
হয়তো কোনো বাবা সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে পারছেন না।
হয়তো কোনো মানুষ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

আপনি যদি সামর্থ্যবান হন এবং তাকে সুদমুক্ত ঋণ দেন, তাহলে আপনি শুধু একজন মানুষকে টাকা দিচ্ছেন না—আপনি তার বিপদের সময়ে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

আর ইসলামে এই কাজের প্রতিদান কত সুন্দর, তা শুনলে সত্যিই হৃদয় নরম হয়ে যায়।

▪️ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার সওয়াব

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةٌ»

“যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেয়, তার জন্য প্রতিদিন সেই ঋণের সমপরিমাণ সদকার সওয়াব রয়েছে।”

আর যখন ঋণ পরিশোধের সময় এসে যায়, এরপরও যদি তাকে অবকাশ দেওয়া হয়, তাহলে—

“প্রতিদিন তার জন্য ঋণের দ্বিগুণ পরিমাণ সদকার সওয়াব রয়েছে।”—মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩,০৪৬; সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ২,৪১৮

▪️একটু সহজ করে বুঝুন...

ধরুন, আপনি আপনার একজন ভাইকে ১,০০০ টাকা ধার দিলেন।

সে বলল,
“ভাই, তিন মাস পর টাকা ফেরত দেব।”

সে যদি সত্যিই অসচ্ছল হয়, তাহলে তাকে সেই সময় পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে সওয়াবের সুসংবাদ।

আর তিন মাস পর সে এসে যদি বলে—

“ভাই, আমি এখনো টাকা জোগাড় করতে পারিনি। আমাকে আরেকটু সময় দাও।”

আপনি যদি তার অসচ্ছলতা বুঝে তাকে সময় দেন, তাহলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—ঋণ পরিশোধের সময় পার হওয়ার পর তাকে অবকাশ দেওয়ার প্রতিটি দিনের সওয়াব আরও বেশি।

কী আশ্চর্য ব্যাপার!

আপনার টাকা হয়তো আপনার কাছেই নেই, কিন্তু আপনার জন্য সদকার সওয়াবের দরজা খোলা থাকতে পারে।

▪️ আর ঋণ মাফ করে দিলে?

এখানেই বিষয়টি আরও সুন্দর হয়ে যায়।

আবু আল-ইউস্র (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ عَنْهُ، أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ»

“যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়, আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।”—সহিহ মুসলিম

একবার ভাবুন—

দুনিয়াতে আপনি একজন অসহায় মানুষের বোঝা একটু হালকা করলেন,
আর আখিরাতে আল্লাহ আপনাকে তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেওয়ার প্রতিদান দিলেন!

▪️মানুষকে ছাড় দিন, আল্লাহর কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার আশা রাখুন

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে—এক ব্যক্তি মানুষকে ঋণ দিতেন এবং তার কর্মচারীকে বলতেন:

“কোনো অসচ্ছল ব্যক্তির কাছে গেলে তাকে ছাড় দিও; হয়তো আল্লাহও আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।”

পরবর্তীতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।—সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম

তাই আপনার কাছে যদি সামর্থ্য থাকে, কারও বিপদের সময় তার পাশে দাঁড়ান।

তাকে সুদের ঋণের দিকে ঠেলে দেবেন না।
তার অসহায়ত্ব নিয়ে উপহাস করবেন না।
বারবার টাকা চেয়ে তাকে অপমান করবেন না।
আর সত্যিই যদি সে অসচ্ছল হয়, তাহলে তাকে সময় দিন।

কারণ—

আপনি জানেন না, আজ আপনি যার কষ্ট সহজ করে দিচ্ছেন, কাল আল্লাহ কোন অদৃশ্য পথে আপনার কষ্ট সহজ করে দেবেন। 🤍

▪️ সম্পদ জমিয়ে রাখার পাশাপাশি আখিরাতের জন্যও বিনিয়োগ করুন

দুনিয়ার ব্যবসায় লাভের হিসাব করা হয়—
“কত টাকা দিলাম, কত টাকা ফেরত পেলাম?”

কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে লেনদেনে হিসাবটা অন্যরকম।

আপনি একজন অসহায় মানুষকে সাহায্য করলেন,
তার সম্মান বাঁচালেন,
তার বিপদ কিছুটা সহজ করলেন—

আর বিনিময়ে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখলেন।

এমন বিনিয়োগের চেয়ে উত্তম বিনিয়োগ আর কী হতে পারে?

তাই সামর্থ্য থাকলে মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ান।

হয়তো আপনার দেওয়া কয়েক হাজার টাকা আপনার জীবনে খুব বড় কিছু নয়—

কিন্তু কোনো অসহায় মানুষের কাছে সেটিই হতে পারে
একটি পরিবারের স্বস্তি,
একটি অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা,
একজন বাবার সন্তানের মুখে হাসি,
অথবা একটি পরিবারকে সুদের ঋণ থেকে বাঁচানোর কারণ।

আর আপনি যদি সেই সাহায্যটি করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাহলে সেই ছোট্ট সহযোগিতাই আপনার আখিরাতের জন্য হয়ে যেতে পারে বিশাল এক নেক আমল।

15/08/2026

মিলাদ আমাদের সমাজে ব্যাপক প্রচলিত একটি জঘন্য বিদআত। এই বিদআত বর্জন করা অপরিহার্য
▬▬▬🌐💠🌐▬▬▬
প্রশ্ন: মিলাদ পড়ানো যাবে কি? যেমন: বিয়ের পূর্বে, বাড়ির কল্যাণ, শারীরিক সুস্থতা কামনা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে?
উত্তর:
বিয়ের পূর্বে, বিয়ে পড়ানোর পরে, নতুন বাড়ি, গাড়ি, দোকান, কোম্পানি উদ্বোধন, বাড়ির কল্যাণ কামনা, কারো সুস্থতা কামনা, মৃত্যু বার্ষিকী, চল্লিশা, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম উৎসব (ঈদে মিলাদুন্নবি), বিশেষ কোন দিবস পালন বা বিশেষ কোনও উপলক্ষে মিলাদ পালন করা সম্পূর্ণ বিদআত। অথচ এটি আমাদের সমাজে ব্যাপক প্রচলিত রয়েছে!
প্রকৃতপক্ষে ইসলামে এ মিলাদের কোনও অস্তিত্ব নাই। ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের তিন শতাব্দী তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগ, সাহাবিদের যুগ এবং তাবেঈনের যুগ পার হয়ে গেলেও ইতিহাসে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, কোন একজন সাহাবি, তাবেঈ বা তাবে তাবেঈ মিলাদ উদযাপন করেছেন।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তাদের ভালবাসা কি কম ছিল না কি তারা ইসলাম বুঝতেন না? কখনও নয়। বরং তাঁরা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রচণ্ড ভালবাসতেন। তারা ছিলেন তার সুন্নত-আদর্শ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং শরিয়তের বিধিবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।

❑ মিলাদের উৎপত্তি কীভাবে হল?

ঐতিহাসিকগণ বলেন, যারা সর্বপ্রথম এই বিদআতকে রূপদান করে তারা হল, বনী উবাইদ আল কাদ্দাহ। এরা নিজেদেরকে ফাতেমি বলে অবিহিত করত এবং নিজেদেরকে আলী রা. এর বংশধর বলে দাবী করত। এরাই ফাতেমী দাওয়াতের প্রতিষ্ঠাতা। [আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ১১/২০২]

ইসলামের নামে মিলাদ প্রচলনে এই ফাতিমিদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হল, দ্বীন ইসলামের মাঝে পরিবর্তন সাধন করে তার মধ্যে এমন কিছু ঢুকানো যার অস্তিত্ব দ্বীনের মধ্যে ছিল না। কারণ, ইসলামী শরিয়ত এবং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত থেকে মানুষকে দূরে সরানোর সব চেয়ে সহজ পদ্ধতি হল, তাদেরকে বিদআতের মধ্যে ব্যস্ত রাখা।

ইতিহাসবিদদের মতে, এদের অবস্থান ইসলাম থেকে শুধু দূরেই নয় বরং এরা ইসলাম ও মুসলমানদের ঘোরতর দুশমনও যদিও এরা বাহ্যিক ভাবে তা স্বীকার করে না।

▪ সউদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আলুশ শাইখ রহ. বলেন, “হিজরি ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে এই বিদআত তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস পালনের প্রথা সর্ব প্রথম চালু করেন আবু সাঈদ কুকুবুরী। [ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ৩/৫৯]
যদিও এ মর্মে অন্য আরও একাধিক মত রয়েছে।

▪ উবাইদিয়াদের শাসনামলে মিলাদ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তা ব্যাপকতা লাভ করতে লাগল। মুসলমানগণ জিহাদ ছেড়ে দিল এবং তারা রূহানী ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় এই বিদআতটি সাধারণ মানুষের মনে শিকড় গেড়ে বসল। এমনকি অনেক মূর্খ মানুষের নিকট এটা আকিদা-বিশ্বাসের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ালো।

কিছু আলেম যেমন ইমাম সুয়ুতি রহ. এই বিদআতের পক্ষে প্রমাণাদি খুঁজতে বাধ্য হলেন যাতে মিলাদের বিদআতকে বৈধতা দেয়া যায়। (তিনি মিলাদের পক্ষে কতিপয় দলিল পেশ করেছেন। কিন্তু অন্যান্য আলেমগণ তার যথোপযুক্ত জবাব দিয়েছেন -আল হামদুলিল্লাহ।
[এ প্রসঙ্গে তার দলিলগুলোর পর্যালোচনা ও সেগুলোর জবাবে আলাদা একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে SalafiBD ওয়েব সাইটে।
লিংক: https://salafibd.wordpress.com/2015/12/23/eid-e-miladunnabi/?fbclid=IwAR0_iLslFFfK8IDao7Zguymr2Zdl-cNywNYPBv9xAww8In6FHr0rK8jiXFE]
আবার অনেক আলেম একদিকে সরকারের ভয়ে অন্য দিকে জন সাধারণের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ার আশংকায় এ বিদআতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পেরে নীরবতা অবলম্বন করলেন।

❑ মিলাদ কেন বিদআত?

মিলাদের যদি কোন উপকার থাকত তবে অবশ্যই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই তাঁর উম্মতকে স্পষ্টভাবে তা পালন করার কথা বলে যেতেন। কারণ দুনিয়া-আখিরাতের এমন কোন কল্যাণকর দিক নেই যা তিনি তার উম্মতকে বলে দেন নি কিংবা এমন কোন ক্ষতিকর দিক নেই যে ব্যাপারে সাবধান করেন নি।

বরং তিনি দ্বীনের ভিতর নতুন নতুন বিদআত তৈরি করার ব্যাপারে কঠিন ভাবে সতর্ক করে গেছেন।

🔹 তিনি বলেন,

وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ

“দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্ট বিষয়াদি থেকে সাবধান! কারণ প্রতিটি নতুন আবিষ্কৃত বিষয়ই গোমরাহি।[মুসতাদরাক, কিতাবুল ইলম, আলবানি রা. হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। [দেখুন: সিলসিলা সাহীহা (সহীহ হাদিস সিরিজ) হাদিস নাম্বার: ২৭৩৫]

🔹 তিনি বিভিন্ন সময় বক্তৃতা দেওয়ার শুরুতে বলতেন,

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ

“অতঃপর,সর্বোত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম নির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশনা। সব চেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস হল, দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত বিষয়াদি। আর প্রতিটি নতুন বিষয়ই ভ্রষ্টতা। [সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: নামাজ এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করা।]

(আল বিদা আল হাওলিয়া কিতাব থেকে পোস্টের মূল কথাগুলো নেওয়া হয়েছে)

যাহোক, বাড়ির কল্যাণ, দাম্পত্য জীবনের সুখ, সম্পদে বরকত ও মৃত ব্যক্তিদের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে করণী হল, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সব কিছু পরিচালনা করা এবং বিপদাপদ থেকে রক্ষা,আল্লাহর রহমত, বরকত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা। দুআর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। অসুখ-বিসুখ ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দুআ করার পাশাপাশি দান-সকদা করাও খুব কার্যকর ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিদআত থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে:
শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Want your business to be the top-listed Transport Service in Riyadh?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Riyadh

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm
Sunday 9am - 5pm