Development for the poor
Livelihood program -2023
19/11/2025
19/11/2025
মেডিকেল ক্যাম্প কামরাংগীরচর, ঢাকা।।
14/11/2025
Medical Camp Saturia,Manikganj
13/09/2025
মেডিকেল ক্যাম্প
ঢাকা।।(medical camp Dhaka)
20/07/2025
Free Medical camp
Kamrangir Char. Dhaka Bangladesh.
18/06/2025
শাসন করে নয় ভালোবেসে শেখাতে হবে...........
সকালবেলা চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি, এমন সময় আমার স্ত্রী বলে উঠল,
"আজ তুমি তিয়াশার স্কুলে যাবে। অংকের ম্যাডাম নাকি ডেকেছেন।"
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের অধ্যাপক। আর আমার স্ত্রী একটা সরকারি হাইস্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষিকা। স্বভাবতই, দুজনেই বেশ কড়া ধাঁচের মানুষ, বিশেষত সকালে।
তিয়াশা ক্লাস ফাইভে পড়ে। এমন কিছু ভয় পাওয়ার ছিল না, তবুও মনে হল ম্যাডাম যখন আলাদা করে ডেকেছেন, নিশ্চয়ই কোনও গুরুতর বিষয়।
স্কুলে গিয়ে দেখি বিশাল একটা ঘর। এক কোণে বসে আছেন গম্ভীর মুখে চশমা পরা অংকের ম্যাডাম। ঠিক যেন কোনও জজ সাহেব। পেছনে অভিভাবকদের সারি। এক এক করে নাম ডাকা হচ্ছে, বিচার চলছে।
প্রথমেই উঠল ঈশানীর মা। ঈশানীর তিনটা অংক ভুল হয়েছে শুনেই বলে উঠলেন, “বাড়ি গিয়ে দেখিস! এবার তোর সব টিউশন বন্ধ করে দেবো।”
তারপর রিয়া। ম্যাডাম বললেন, ভুল ভাল অঙ্ক কষছে। তখনই রিয়ার বাবা গর্জে উঠলেন, “আজ থেকে মোবাইলটা খেলার বদলে বই পড়বি, না হলে...!”
বাচ্চারা একে একে ডেকে নিয়ে অপমানিত হচ্ছে, আর অভিভাবকেরা যেন সেই অপমানকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কারও কাঁধে হাত রেখে বোঝানোর ভাষা নেই।
অবশেষে ডাক এল তিয়াশার। আমি শান্তভাবে এগিয়ে গেলাম।
ম্যাডাম বললেন, “আপনার মেয়ে বেশ কিছু অংক পারেনি। ওর মনোযোগ ঠিক নেই মনে হচ্ছে।”
আমি হাসলাম। বললাম, “ম্যাডাম, অর্ধেক অংক তো শিখেছে! বাকিটা সময়ের সঙ্গে শিখে নেবে। আমরা তাকে শেখার আনন্দটা নষ্ট হতে দিতে চাই না।”
তিনি বিস্মিত মুখে তাকালেন, “আপনি নিশ্চিন্ত এতটা?”
“আমি নিজে মাধ্যমিকে অংকে পঁচিশ পেয়েছিলাম। আমার স্ত্রী পেয়েছিল সাতাশ। অথচ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, আর ও বিজ্ঞানের শিক্ষিকা। তাই না ম্যাডাম, জীবনের রেজাল্ট সব সময় নম্বরে মাপা যায় না!”
তিয়াশা আমার হাত চেপে ধরল। মুখে ছোট্ট একটা হাসি। আর আমার হৃদয়টা ভরে উঠল।
ফিরে আসার সময় তিয়াশা বলল, “বাবা, আজ চিকেন খেতে পারি?”
আমি বললাম, “শুধু তুই না, রিয়াকেও ডাক। ওর বাবার কথা শুনে মনে হল আজ খেতে পাবে না ও।”
বাচ্চারা বইয়ের পাতার চেয়ে বড়ো কিছু তাদের মন, তাদের প্রশ্ন, তাদের আবেগ। অঙ্ক ভুল করলে ভয়ের নয়, ভুল শুধরে নিতে শেখাটাই বড়ো।
চাপ দিয়ে নয়, পাশে থেকে শেখালে ওরাই একদিন আমাদের থেকেও বড়ো হয়ে উঠবে।
(সংগ্ৰহকৃত)।
18/06/2025
ছেলে! একটু খেয়ে নে… দুই দিন ধরে তুই কিছু খাসনি।"
মায়ের অসহায় কণ্ঠস্বর ছেলের কাছে আর্তি জানাচ্ছে।
"দেখ মা, আমি তো বলেছিলাম দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার পরে সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক চাই। বাবা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ আমার শেষ পরীক্ষা। তুমি দিদিকে বলে দিও, আমি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরোতেই যেন টাকা নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। আমার বন্ধুর পুরোনো বাইক আজই নিতে হবে। আর হ্যাঁ, যদি দিদি টাকা নিয়ে না আসে, আমি আর বাড়ি ফিরব না।"
এক গরিব পরিবারের একমাত্র ছেলের জেদ এবং অসহায় মায়ের লড়াই যেন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
"বাবা তোর বাইক কিনে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মাসখানেক আগে একটা দুর্ঘটনা…"
মা কথা শেষ করার আগেই ছেলে বলে ওঠে, "আমি কিছু জানি না… আমার বাইক চাই-ই চাই!"
এ কথা বলে মোহন তার মা-বাবাকে অভাবের গভীরে ফেলে রেখে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
পাঠশালার বিশেষ পরীক্ষা
দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার পর ভাগবত স্যার একটি অনন্য পরীক্ষা নিতেন। তার বিষয় ছিল গণিত, তবে ছাত্রদের জীবনের "গণিত"ও শেখাতেন।
এই বছরের পরীক্ষার বিষয় ছিল “আমার পারিবারিক ভূমিকা”।
মোহন পরীক্ষার হলে ঢুকে প্রথম প্রশ্ন পড়ল।
১. আপনার পরিবারের প্রত্যেকে দিনে কত ঘণ্টা কাজ করেন? বিশদে লিখুন।
মোহন লিখতে শুরু করল।
বাবা সকাল ছ’টা থেকে অটো নিয়ে বের হন এবং রাত ন’টায় ফেরেন। ফ্র্যাকচারের পরও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মোট ১৫ ঘণ্টা।
মা ভোর চারটায় উঠে বাবার টিফিন তৈরি করেন, পরে সেলাইয়ের কাজ করেন। রাতের খাবারের পর বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেলে তিনি শুতে যান। প্রায় ১৬ ঘণ্টা।
দিদি সকালে কলেজে যায়, বিকেলে পার্টটাইম কাজ করে। রাতে মাকে সাহায্য করে। প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা।
আমি সকালে উঠে স্কুলে যাই, দুপুরে খেয়ে ঘুমাই। সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করি। রাতে পড়াশোনা করি। প্রায় ১০ ঘণ্টা।
এ উত্তর লিখতে গিয়ে মোহন বুঝতে পারল, তার কাজে অন্যদের তুলনায় অবদান খুব কম।
২. মাসে পরিবারের মোট আয় কত?
উত্তর: বাবার ১০ হাজার টাকা। মা ও দিদির ৫ হাজার। মোট ১৫ হাজার।
৩. আপনার মোবাইল রিচার্জ প্ল্যান, পছন্দের তিনটি সিরিয়ালের নাম এবং শহরের সিনেমা হলের নাম লিখুন।
এ প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখল মোহন।
৪. এক কেজি আলু, ভিন্ডি, চাল, গম এবং তেলের দাম লিখুন। আপনার বাড়ির গম পিষতে যে আটা মিলে যান, তার নাম ও ঠিকানা লিখুন।
মোহন থেমে গেল। সে বুঝল, পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের বিষয়ে তার কোনও ধারণাই নেই।
৫. বাড়িতে কখনও খাবার নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, আলু ছাড়া অন্য তরকারি হলে আমি রাগ করি এবং খাওয়া ছেড়ে উঠে যাই।
(মোহন মনে পড়ল, মায়ের গ্যাসের কষ্টের কথা, যা সে অবজ্ঞা করত। তার জেদের কারণে পরিবার কতটা কষ্ট পায়, আজ সে বুঝল।)
৬. আপনার পরিবারের প্রতি আপনার সর্বশেষ জেদের কথা লিখুন।
মোহন উত্তর লিখল: "বাইক কেনার জন্য আমি দুই দিন খাওয়া বন্ধ করেছি। বলেছি, টাকা না দিলে বাড়ি ফিরব না।"
---
পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে মোহনের চোখ ভিজে গেল। তার মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে লাগল।
১০. এই ছুটিতে কীভাবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করবেন?
এ প্রশ্নে তার কলম থেমে গেল। উত্তর না লিখে সে ভাবল, এ প্রশ্নের উত্তর তাকে জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।
বাস্তবের পরীক্ষা
পরীক্ষা শেষে দিদি বাইরের গেটে দাঁড়িয়ে।
"এই নে, আট হাজার টাকা। মাকে বলেছিস, বাইক না পেলে বাড়ি ফিরবি না। তাই মা-বাবা মিলে টাকা জোগাড় করেছেন।"
মোহন বলল, "কোথা থেকে এই টাকা এলে?"
দিদি উত্তর দিল, "আমার আগাম বেতন, মায়ের সেলাইয়ের কাজ থেকে ধার আর পকেটমানির জমানো টাকা থেকে।"
বন্ধু বাইক নিয়ে হাজির হল। মোহন বাইকের দিকে তাকাল এবং বলল,
"দোস্ত, বাইক অন্যকে দিয়ে দে। এখন আমার দরকার নেই।"
পরিবর্তন
বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে বলল, "সরি মা! এখন থেকে বাবা অটো চালাবেন না। আমি চালাব। আর আজ রাতে সবাই মিলে পছন্দের খাবার খাব।"
মায়ের চোখ ভিজে গেল। ভাগবত স্যার বাড়িতে ঢুকে বললেন,
"মোহন, তুমি পরীক্ষায় সবার আগে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ আজ তুমি শিখলে।"
মোহন বলল, "স্যার, এই পাঠ সারা জীবন মনে রাখব।"
এ গল্প জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ বোঝায়। ছেলেমেয়েদের এই গল্প পড়ার সুযোগ দিন, কারণ এটি তাদের জীবনের দায়িত্ব ও সম্পর্কের গুরুত্ব শিখতে সাহায্য করবে। (সংগ্ৰহকৃত)।
04/06/2025
পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা সবাইকে।।
28/05/2025
Medical camp, Mohammadpur,dhaka
13/04/2025
শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে।।
Website
Address
Dhaka
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Development for the poor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.