PKB Mondol
Chant Hare Krishna and be Happy
25/06/2025
গুন্ডিচা মন্দির মার্জন মহিমা ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর গুণ্ডিচা মার্জন লীলা:
রথযাত্রার দিন শ্রীজগন্নাথ গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। সারা বছরের ৮/৯ দিন সেখানে থাকেন। আর পৌনে বার মাস গুণ্ডিচা মন্দির ফাঁকা থাকে। এক বছরের ধুলো বালি ময়লা মন্দিরে জমে আছে। পড়িছার দ্বায়িত্ব মন্দির পরিস্কার করা। কিন্তু শ্রীমনমহাপ্রভূ পড়িছার কাছে এই দ্বায়িত্ব যেচে নিলেন। সাংসারিক জীবের কাছে ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করা হীন কাজ, দাস দাসীদের কাজ। কিন্তু শ্রীমন মহাপ্রভূ যিনি স্বয়ং গোলক বিহারী শ্রীকৃষ্ণ, যিনি অনন্তকোটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর, অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডের ব্রহ্মা, কত কত রুদ্র যার চরন সেবার জন্য লালায়িত আজ তিনি কি করছেন? আজ তিনি নিজের শ্রীহস্তে গুণ্ডিচা মন্দির পরিস্কার করার দ্বায়িত্ব নিলেন। এ কি তার যোগ্য কর্ম? এই গুণ্ডিচা মার্জন লীলার কয়েকটি কারন রয়েছে।
- শ্রীমান মহাপ্রভূর দুটি ভাব। ভক্তভাব এবং ভগবত ভাব। ভক্তভাবে প্রভূ আমাদের নিজে আচরন করে জীবকে শিক্ষা দিলেন। এই শিক্ষা সেই দয়াময় না দিলে আর কে দেবেন? মন্দির মার্জন কর্মটি জগন্নাথের জন্য। সুতরাং এটাও ভজনাঙ্গ। যে ভজনাঙ্গে ভগবত কৃপা লাভ সম্ভব। গুণ্ডচায় এক বছরের ধুলো ময়লা জমে আছে, সেখানে আমার প্রাণপ্রীয় জগন্নাথ কেমন করে থাকবেন, এই কথা ভেবে ভগবত প্রেমিক ভক্তের হৃদয় বিকল হয়ে যায় ভগবানের প্রতি ভক্তের প্রীতির আধিক্য জনিত কারনে। সন্তান যখন শরীরে ময়লা মেখে রাখে তখন দাস- দাসী নয়, মা ছুটে আসেন সন্তানকে পরিস্কার করার জন্য কারন সন্তানের প্রতি মায়ের প্রীতির আধিক্য। এ কাজ কি কোনো হীন কাজ হতে পারে?দক্ষিনাঞ্চলের স্বাধীন নরপতি প্রতাপ রুদ্র রাজাও নিজে রথাগ্রে চন্দন সুবাসিত জল ছড়িয়ে ঝাড়ু দিতেন।
- গুণ্ডিচা মার্জন লীলাটিতে প্রভুর ভগবত ভাবও আছে। ভগবানতো শুধুমাত্র সেবা গ্রহন করেন কিন্তু সেবা করে যে কত সুখ কি তার আনন্দ তা আস্বাদনের লোভেও প্রভূ গুণ্ডিচা মার্জনের দ্বায়িত্ব নিয়েছিলেন। কৃষ্ণ লীলাতেও প্রভূ একই কাজ করেছিলেন। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে ব্রাহ্মনদের পাদ প্রক্ষালনের ভার নিয়েছিলেন। ব্রাহ্মনের পদসেবায় যে আনন্দ তার লোভ চতুর চড়ামনি শ্রীকৃষ্ণ ত্যাগ করতে পারেননি। জীবশিক্ষার জন্য তিনি দেখিয়ে দিলেন যে," যিনি বড় তিনিই হীন সেবা করতে পারেন "। কিন্তু কৃষ্ণলীলার মতো গুণ্ডিচা মার্জন লীলার আনন্দ প্রভূ একা ভোগ করেন নি। প্রভূ আমাদের দাতার শিরোমণি, তাই প্রিয় পার্ষদ সকলকেই ঐ আনন্দের ভাগ দিলেন। অল্প অল্প ভাগ নয়, প্রভূ বললেন -----
" কে কত কুড়ায় সব একত্র করিব। যার অল্প তাঁর ঠাঞি পিঠা পানা লব। "....... অর্থাৎ যে যত খুশি পরিশ্রম করে সেবার সুযোগ নিয়ে নাও।
- গুণ্ডিচা মার্জন লীলার আরও একটি গুঢ় তাৎপর্য আছে এবং এটাই প্রভূর নদীয়া লীলার বৈশিষ্ট্য। শ্রীশ্রী গৌরসুন্দর হলেন রাধাভাবাবিষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ।শ্রীরাধার ভাবে আবিষ্ট হয়ে আজ তিনি গুণ্ডিচা মার্জন করছেন। রথযাত্রার ছলে শ্রীজগন্নাথ বৃন্দাবন লীলারস আস্বাদনের জন্যই মন্দির থেকে বেড়িয়ে আসেন। শ্রীরাধা ভাবে আবিষ্ঠ মহাপ্রভূ মনে মনে ভাবছেন ------- বহুকাল পরে তার প্রাণবল্লভ দ্বারকা বা কুরুক্ষেত্র থেকে ব্রজে আসবেন। তাই তার আনন্দের সীমা নাই। সেই আনন্দের প্রেরণায় প্রাণবল্লভকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সখীদের সঙ্গে নিয়ে বহুকাল পরিত্যক্ত নিকুঞ্জ মন্দির পরিস্কার করছেন। তার ভক্তবৃন্দ সখীবৃন্দ আর তিনি রাধা ।
25/06/2025
হরে কৃষ্ণ 🙏🥰❤️
🏵 #শাঁখা_সিঁদুর_পরার_কারণ–
----------------------------------------------
বৈদিক সনাতন বা হিন্দু নারীদের অলংকার শাখাঁ সিদুঁর। শাঁখা, সিঁদুরই তাদের অহংকার। শাঁখা, সিঁদুর ও লোহা ব্যবহারের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক এই তিনটি কারণ রয়েছে।
🧡ক) #আধ্যাত্মিক_কারণ–🌻শাঁখার সাদা রং–সত্ত্ব, সিঁদুরের লাল রং–রজঃ এবং লোহার কালো রং–তম গুণের প্রতীক। সংসারী লোকেরা তিনটি গুণের অধীন হয়ে সংসারধর্ম পালন করে। আর এই তিন গুণকে সাথী করে, আধ্যাত্মিকতায় ত্রিগুণের অতীত হওয়ারই প্রয়াস।
🧡খ) #সামাজিক_কারণ–🌻তিনটি জিনিস পরিধান করলে প্রথম দৃষ্টিতেই জানিয়ে দেয় ঐ রমণী একজন পুরুষের অভিভাবকত্বে আছেন। সে কারণেই অন্য পুরুষের লোভাতুর, লোলুপ দৃষ্টি প্রতিহত হয়। সভ্য এবং সুশিক্ষিত পুরুষেরা সর্বদাই নারীর মর্যাদা সকল স্থানে এবং সব সময়ে রক্ষা করে থাকেন। স্বামীর মঙ্গল চিহ্নতো অবশ্যই থাকে এই শাঁখা সিঁদুরের আবরণে।
🧡গ) #বৈজ্ঞানিক_কারণ–🌻রক্তের তিনটি উপাদান, শাঁখায় ক্যালসিয়াম, সিঁদুরে মার্কারি বা পারদ এবং লোহায় আয়রণ আছে।
🌻রক্তের তিনটি উপাদান মায়েদের মাসিক রজঃস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। তিনটি জিনিস নিয়মিত পরিধানে রক্তের সে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। আর্য ঋষিরা সনাতন ধর্মের প্রতিটি আচার অনুষ্ঠানই বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে আচার বা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন।
🏵 #শাঁখা–🌳 শাঁখা সামুদ্রিক শঙ্খ থেকে তৈরি এবং এটি হিন্দু ধর্মীয় বৈবাহিক রীতির একটি অলঙ্কার। হিন্দু রমণীরা তাঁদের স্বামীর মঙ্গল কামনায় শাঁখা যত্ন সহকারে ব্যবহার করেন।
🌻কাটা বা ভাঙ্গা শাঁখা ব্যবহার করা অমঙ্গল ও শঙ্কাজনক মানসিকতার সৃষ্টি করে।
🌻শাঁখা স্বামীর প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার প্রতীক। সাধারণ শঙ্খে ডান থেকে বামে গোলাকার মোড় দেখা যায়। যখন কোনো শঙ্খে বিপরীতমুখী মোড় দেখা যায়, সে শঙ্খকে অতি মূল্যবান বলে ধরা হয় ও সেটিকে বলা হয় "দক্ষিণাবর্ত" বা সৌভাগ্যবান শঙ্খ। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ শঙ্খকে পবিত্র শঙ্খ বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবতা বিষ্ণু এ ধরণের শঙ্খ হাতে ধারণ করে থাকেন।
🌻ওলন্দাজ জাতির কাছেও শঙ্খ পবিত্র বলে চিহ্নিত।
🏵আকৃতি অনুযায়ী শঙ্খগুলিকে কয়েকটি নামে অভিহিত করা হয়। যেমন–
🌻পদ্ম শঙ্খ (যা বিষ্ণু ধারণ করেন),
🌻বাদ্য শঙ্খ (যা মন্দিরে ফুঁ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়),
🌻জল শঙ্খ (পূজা-অর্চনায় ব্যবহৃত হয়),
🌻গোমুখ শঙ্খ (ধর্মীয় কাজে ব্যবহার-অযোগ্য),
🌻সাধারণ শঙ্খ ইত্যাদি।
🏵 #সিঁদুর/ #সিন্দূর–🌻সিঁদুর বা সিন্দূর এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ। হিন্দুধর্মে সিঁদুর বিবাহিতা নারীর প্রতীক।
🌻হিন্দুদের পূজানুষ্ঠানের সময়ও সিঁদুর ব্যবহৃত হয়। হিন্দু ধর্মমতে এটি স্বামীর দীর্ঘ জীবন বয়ে আনে বলে বিবাহিত হিন্দু নারীরা সিঁদুর ব্যবহার করেন।
🌻এর রঙ লাল, কারণ এটি শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক।
🏵 #বাহ্যিক_সামাজিক_গুণাবলী–🌻কোনো শাঁখা সিদুঁর পরিহিত মহিলা দেখলে সবাই বুঝে যে, সে বিবাহিত। সেই ক্ষেত্রে তার সাথে সুশ্রী আচরণ করা হয়। যদিও প্রত্যেক নারীই সুশ্রী আচরণের যোগ্যা। নারীদেরও শাঁখা সিদুঁরের প্রতি আলাদা স্পৃহা থাকে। কেননা এটি তার জীবনের মিলবন্ধনে প্রতি মুহূর্তে তাকে জ্ঞাত করে। হিন্দু মেয়েদের কাছে তাদের স্বামী দেবতা স্বরূপ। তাই স্বামীর প্রথম দেওয়া এ শাখাঁ সিঁদুরই তার অহংকার।
🏵একজন নারী তার শাখাঁ সিদুঁরের মাধ্যমে এবং বিবাহের মন্ত্রসহ সকল কাজের সমাপ্তির মাধ্যমেই তার স্বামীর সাথে আপন হতে থাকে। একটু একটু করে সকল আচার বিধি শেষ হওয়ার মাধ্যমে অটুট হতে থাকে তাদের যুগযুগান্তরের বন্ধনও।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Mymensingh
২২৪০