LaughaLaughi

LaughaLaughi

Share

ভারতের একমাত্র বাংলা মিডিয়া সংস্থা
যারা ফেক নিউজ ছড়ায় না

LaughaLaughi is a registered trademark of LaughaLaughi Private Limited.

Trademark Numbers - 4944806 (class 35), 4944552 (class 16), 4944563 (41)

10/08/2026

মাদাগাস্কারের আন্দোমবিরি অরণ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সিতাকাকান্তসা শুধু একটি বিশাল বাওবাব নয়, এটি যেন কয়েক শতাব্দীর জীবন্ত ইতিহাস। প্রায় ২৯ মিটার পরিধির এই গ্র্যান্ডিডিয়েরের বাওবাব স্থানীয় মানুষের কাছে পবিত্র। তার আগেও এই অরণ্যে ছিল আরও এক প্রাচীন দৈত্য, সিতাকাকোইকে, যার বয়স গবেষণায় প্রায় ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ বছর অনুমান করা হয়েছিল। সেটি হারিয়ে যাওয়ার পর সিতাকাকান্তসাই হয়ে ওঠে স্থানীয় বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

আশ্চর্যের বিষয়, প্রাচীন বাওবাবের কাঠের মধ্যেই সংরক্ষিত থাকে শত শত বছরের জলবায়ুর ইতিহাস। কিন্তু আজ সেই জীবন্ত ইতিহাসই ভয়াবহ অবক্ষয়ের মুখে। ২০২৫ সালের প্রবল বৃষ্টির পরে গাছটির ভিতরে জল জমে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একটি বড় শাখাও ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই প্রাচীন দৈত্যের আরও বড় অংশ ভেঙে পড়তে পারে।

----

মাদাগাস্কারের দক্ষিণ-পশ্চিমে আন্দোমবিরি অরণ্যের ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে এমন এক গাছ, যার শরীরের মাপ শুনলেই তার বয়স ও গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নাম সিতাকাকান্তসা। এটি গ্র্যান্ডিডিয়েরের বাওবাব, বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাডানসোনিয়া গ্র্যান্ডিডিয়েরি। প্রায় ২৯ মিটার পরিধির এই বিশাল গাছকে মাদাগাস্কারের সবচেয়ে বড় জীবিত নথিভুক্ত বাওবাব হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু আজ এই দৈত্যাকার গাছটির শরীরের ভিতরেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ ক্ষয়। গবেষকদের আশঙ্কা, যে গাছ শত শত বছর ধরে ঝড়, খরা আর ঋতুর পরিবর্তন পেরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তার ভবিষ্যৎ এখন আর নিরাপদ নয়।

সিতাকাকান্তসাকে বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে আন্দোমবিরি অরণ্যকে। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই অরণ্যে প্রায় ৬,০০০টি পূর্ণবয়স্ক গ্র্যান্ডিডিয়েরের বাওবাব রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টিরও বেশি গাছের পরিধি ২০ মিটারের বেশি। অর্থাৎ সিতাকাকান্তসা কোনও বিচ্ছিন্ন দৈত্য নয়, বরং এমন একটি অরণ্যের অংশ যেখানে বাওবাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভূদৃশ্যের অন্যতম প্রধান পরিচয় হয়ে রয়েছে। এই গাছগুলির কাণ্ডও সাধারণ গাছের মতো নয়। বহু পুরনো বাওবাবের ভিতরে ফাঁপা অংশ, একাধিক কাণ্ডের গঠন এবং জটিল কাঠামো দেখা যায়। বাইরে থেকে একটি বিশাল কাণ্ড মনে হলেও ভিতরের গঠন অনেক বেশি জটিল।

এই অরণ্যের ইতিহাসে আরও এক বিশাল গাছের নাম জড়িয়ে রয়েছে—সিতাকাকোইকে। একসময় সেটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ নথিভুক্ত বাওবাবগুলির একটি মনে করা হত। তার পরিধি ছিল প্রায় ২৭ মিটার। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তার কাঠের সবচেয়ে পুরনো নমুনার বয়স প্রায় ১,২৭৪ বছর পাওয়া যায় এবং গবেষকেরা গাছটির মোট বয়স আনুমানিক ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ বছর বলে অনুমান করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সেই প্রাচীন গাছটি হারিয়ে যায়। তার পরে স্থানীয় মানুষের কাছে সিতাকাকান্তসার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। অনেকেই তাকে হারিয়ে যাওয়া সিতাকাকোইকের আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

এই কারণেই সিতাকাকান্তসার বর্তমান অবস্থা শুধু পরিবেশগত ক্ষতির ঘটনা নয়। আন্দোমবিরির স্থানীয় মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র গাছ এবং বহু বছরের সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ। গাছটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি বিরাট জীবন্ত কাঠামো অদৃশ্য হবে না, হারিয়ে যাবে এমন একটি প্রতীক, যার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, অরণ্যের ইতিহাস এবং আগের এক প্রাচীন বাওবাবের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।

বাওবাবের শরীর যে শুধু ইতিহাস বহন করে, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। মাদাগাস্কারের কয়েকটি প্রাচীন বাওবাবের কাঠ পরীক্ষা করে গবেষকেরা প্রায় ৭০০ বছরের বৃষ্টিপাতের ইতিহাস পুনর্গঠন করেছেন। অর্থাৎ গাছের ভিতরের রাসায়নিক সংকেত বিশ্লেষণ করে ১৩০০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের জলবায়ুর পরিবর্তনের ছবি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। গবেষণায় ১৩৫০ থেকে ১৪৫০ সালের মধ্যে বেশি বৃষ্টিপাত, ১৬০০ থেকে ১৭৫০ সালের মধ্যে দীর্ঘ শুষ্ক সময় এবং ১৭৫০ সালের পর দীর্ঘমেয়াদি বৃষ্টিপাত কমার প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ফলে এই প্রাচীন গাছগুলি এক অর্থে মাদাগাস্কারের প্রাকৃতিক জলবায়ু-নথিও বহন করছে।

আর সেই প্রাচীন বাওবাবগুলিরই এক প্রতিনিধি আজ নিজেই বিপদের মুখে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে গবেষক সিরিল কর্নু সিতাকাকান্তসার গোড়ার দিকে কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত তরল এবং পচনের লক্ষণ দেখতে পান। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় জুডের সময় প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, গাছের উপরের ফাঁপা অংশে জল ঢুকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে। সেই জমে থাকা জল ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করে ভিতরের কাঠামো দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এটিকে এখনও সম্ভাব্য কারণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত একমাত্র কারণ হিসেবে নয়।

এর পরে সিতাকাকান্তসার কাণ্ডে ফাটল দেখা যায় এবং একটি বড় প্রধান শাখা ভেঙে পড়ে। বিশেষজ্ঞ সিরিল কর্নুর আশঙ্কা, গাছটির অবক্ষয় এখন অপরিবর্তনীয় পর্যায়ে পৌঁছে থাকতে পারে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এর আরও বড় অংশ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাদাগাস্কারের সবচেয়ে বড় জীবিত বাওবাবগুলির একটি তাই এখন নিজের শরীরেই সময়ের শেষ অধ্যায়ের চিহ্ন বহন করছে।

10/08/2026

ভারতীয় তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জগতে এল আরও এক বড় স্বীকৃতি। অধ্যাপক দীপক ধর পেয়েছেন ২০২৬ সালের ডির‌্যাক পদক, যা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় অত্যন্ত সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলির একটি। তবে তিনি একা নন—এ বছর বার্নার্ড দেরিদা, দীপক ধর, মার্ক মেজার এবং হাইম সোমপলিনস্কি, মোট চার জন বিজ্ঞানী এই সম্মান পেয়েছেন। পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যার জটিল সমস্যা নিয়ে দীপক ধরের কয়েক দশকের গবেষণা তাঁকে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।

স্ব-সংগঠিত সংকটধর্মী ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জটিল ব্যবস্থার আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আজ পদার্থবিদ্যার বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে বোল্টজ়মান পদক এবং ২০২৩ সালে পদ্মভূষণ পাওয়ার পর এবার ডির‌্যাক পদক তাঁর গবেষণাজীবনের মুকুটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পালক। একজন ভারতীয় বিজ্ঞানীর এই আন্তর্জাতিক সম্মান কেন এত তাৎপর্যপূর্ণ, আর তাঁর গবেষণা কীভাবে আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে—জেনে নাও পুরো গল্প।

----

পদার্থবিদ্যার দুনিয়ায় ফের এক ভারতীয় বিজ্ঞানীর কৃতিত্ব। ২০২৬ সালের ডির‌্যাক পদকে সম্মানিত হলেন অধ্যাপক দীপক ধর। তবে এই পুরস্কারের একমাত্র প্রাপক তিনি নন। আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা কেন্দ্রের ২০২৬ সালের ডির‌্যাক পদক পেয়েছেন মোট চার জন বিজ্ঞানী—বার্নার্ড দেরিদা, দীপক ধর, মার্ক মেজার এবং হাইম সোমপলিনস্কি। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে দেওয়া এই সম্মানটির ঘোষণা হয়েছে ৮ অগস্ট, পল ডির‌্যাকের জন্মদিনে। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর এই পদক দেওয়া হচ্ছে।

দীপক ধরের নাম অবশ্য ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চায় নতুন নয়। পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যার একাধিক জটিল সমস্যা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। বিশেষ করে স্ব-সংগঠিত সংকটধর্মী ব্যবস্থার সঠিক সমাধান, পৃষ্ঠ বৃদ্ধির তত্ত্ব, বিশৃঙ্খল চৌম্বক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি শিথিলতা, পারকোলেশন এবং গুচ্ছ গণনার মতো বিষয়ে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভগ্নাংশীয় গঠনের বর্ণালী মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এই গবেষণাগুলিই তাঁকে পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

সহজ করে বললে, দীপক ধরের গবেষণার একটি বড় অংশ এমন সব ব্যবস্থাকে বোঝার চেষ্টা করে, যেখানে অসংখ্য ছোট উপাদান নিজেদের মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে ক্রিয়া করতে করতে হঠাৎ বড় আকারের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বালির স্তূপের মতো একটি ব্যবস্থায় একের পর এক ছোট পরিবর্তন কীভাবে বৃহৎ ধস বা বিস্ফোরণধর্মী পরিবর্তনের জন্ম দিতে পারে, সেই ধরনের আচরণ বোঝার জন্য স্ব-সংগঠিত সংকটধর্মী মডেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণা শুধু তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়; জটিল ব্যবস্থা, গণনাবিজ্ঞান এবং অন্যান্য আন্তঃবিষয়ক গবেষণাতেও এর প্রভাব রয়েছে।

১৯৫১ সালের ৩০ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম দীপক ধরের। ছোটবেলায় তাঁর মা চেয়েছিলেন ছেলে প্রশাসনিক আধিকারিক হোন। কিন্তু তাঁর বাবা নিয়মিত বাড়িতে বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা আনতেন। সেখান থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, কানপুর আইআইটি থেকে স্নাতকোত্তর এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ১৯৭৮ সালে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেন তিনি।

পিএইচডির পরে দেশে ফিরে ১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা বিভাগে কাজ করেন দীপক ধর। দীর্ঘ সময় সেখানে গবেষণা ও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকার পরে তিনি পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের সঙ্গেও যুক্ত হন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল সায়েন্সেস এবং টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চেরও যোগ রয়েছে। তিনি ভারতের তিনটি প্রধান বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির নির্বাচিত ফেলো এবং বিশ্ব বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিরও ফেলো।

এই ডির‌্যাক পদক তাঁর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। ১৯৯১ সালে পেয়েছেন শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কার, ১৯৯৩ সালে আইসিটিপির জে আর শ্রিফার পুরস্কার এবং ২০০২ সালে বিশ্ব বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির পুরস্কার। ২০২২ সালে পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যায় অসামান্য অবদানের জন্য জন হপফিল্ডের সঙ্গে যৌথ ভাবে বোল্টজ়মান পদক পান তিনি। টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, তিনিই প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞানী যিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে।

২০২৬ সালের ডির‌্যাক পদকের ক্ষেত্রে দীপক ধরকে বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যার বিস্তৃত ক্ষেত্রে তাঁর পথপ্রদর্শক গবেষণা। এই গবেষণার মাধ্যমে সাম্যাবস্থার পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যার ধারণা ও পদ্ধতিকে অসাম্যাবস্থা, অনুকূলায়ন, তাত্ত্বিক স্নায়ুবিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করার পথ আরও শক্তিশালী হয়েছে। অর্থাৎ কয়েক দশক আগে জটিল পদার্থগত ব্যবস্থাকে বোঝার জন্য যে তাত্ত্বিক কাজ শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব আজ পদার্থবিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণাতেও পৌঁছে গিয়েছে।

10/08/2026

তিরঙ্গা যাত্রা কি সত্যিই নতুন কোনও ঐতিহ্য? উত্তরটা খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় প্রায় ১২০ বছর আগে। আজকের জাতীয় পতাকার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার নাম। ১৯০৬ সালে এই শহরেই স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় একটি জাতীয় পতাকা প্রকাশ্যে উত্তোলন করা হয়েছিল। তারপর ভিকাজি কামা, পিংগালি ভেঙ্কাইয়া, মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে ১৯৩১ সালের কংগ্রেসের তিরঙ্গা—একাধিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে আজকের জাতীয় পতাকা।

১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদ বর্তমান তিরঙ্গাকে গ্রহণ করে। স্বাধীনতার পরে পতাকা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রতীক। আর ২০২২ সালে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির মাধ্যমে পতাকা আবার পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। সেখান থেকেই নতুন মাত্রা পায় তিরঙ্গা যাত্রা। আজকের কলকাতার রাজপথের এই যাত্রার পিছনে তাই রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত এক দীর্ঘ ইতিহাস।

----

আজ যে তিরঙ্গাকে আমরা ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেবে চিনি, তার ইতিহাস আসলে স্বাধীনতার বহু বছর আগে শুরু হয়েছিল। বর্তমান পতাকার রূপ একদিনে তৈরি হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে একাধিক নকশা, রং, প্রতীক এবং রাজনৈতিক ভাবনার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে আজকের জাতীয় পতাকা। আর এই ইতিহাসের একেবারে প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার নাম। ১৯০৬ সালের ৭ অগস্ট কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে, বর্তমানে যেটি গ্রিন পার্ক নামে পরিচিত, একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সেই পতাকা আজকের তিরঙ্গা ছিল না। তাতে ছিল লাল, হলুদ এবং সবুজ রঙের তিনটি অনুভূমিক অংশ। মাঝের হলুদ অংশে লেখা ছিল ‘বন্দে মাতরম্’। অন্য অংশে ছিল পদ্ম, সূর্য এবং অর্ধচন্দ্রের প্রতীক। স্বদেশি আন্দোলনের উত্তাল সময়ে এই পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর ঠিক এক বছর পর, ১৯০৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতার দাবি দেশের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপেও পৌঁছে যায়। বিপ্লবী ভিকাজি কামা এবং তাঁর সহযোগীরা জার্মানির স্টুটগার্টে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে ভারতের স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। বিদেশের মাটিতে ভারতীয় স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পতাকা তুলে ধরার এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তখনও ভারতের কোনও সরকারি জাতীয় পতাকা ছিল না। বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার করছিল। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—পতাকা ধীরে ধীরে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠছে।

১৯১৭ সালে অ্যানি বেসান্ত এবং বাল গঙ্গাধর তিলকের নেতৃত্বে হোম রুল আন্দোলনের সময়ও একটি আলাদা পতাকা ব্যবহৃত হয়। সেই পতাকায় ছিল লাল ও সবুজ রঙের একাধিক অনুভূমিক দাগ, সপ্তর্ষিমণ্ডলের আদলে সাতটি তারা, এক কোণে ইউনিয়ন জ্যাক এবং অন্য অংশে চাঁদ ও তারার প্রতীক। এই একের পর এক পরিবর্তন থেকেই বোঝা যায়, স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা এমন একটি পতাকার সন্ধান করছিলেন, যা একই সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

এই সন্ধানের সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত হয়ে যান পিংগালি ভেঙ্কাইয়া। ১৯১৬ সালে তিনি ভারতের জন্য একটি জাতীয় পতাকার সম্ভাব্য নকশা নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর তিনি ভারতের জন্য উপযুক্ত একটি পতাকার ধারণা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর এই কাজ পরবর্তীকালে জাতীয় পতাকার নকশা তৈরির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ভেঙ্কাইয়ার নাম তাই ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

১৯২১ সালে বিজয়ওয়াড়ায় কংগ্রেসের অধিবেশনের সময় ভেঙ্কাইয়া মহাত্মা গান্ধীর সামনে একটি পতাকার নকশা উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক নকশায় ছিল লাল ও সবুজ রং। পরে গান্ধীর পরামর্শে সাদা রং এবং চরকার প্রতীক যুক্ত হয়। চরকা তখন শুধুমাত্র একটি নকশা ছিল না। স্বদেশি, দেশীয় উৎপাদন, আত্মনির্ভরতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের যোগকে প্রকাশ করত চরকা। ফলে পতাকা ক্রমশ রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের সঙ্গেও যুক্ত হতে শুরু করে।

১৯২০ এবং ১৯৩০-এর দশকে জাতীয় পতাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সভা, মিছিল, প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন জনসমাবেশে পতাকা হাতে মানুষের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ সরকারের চোখে পতাকা ছিল রাজনৈতিক প্রতিরোধের দৃশ্যমান চিহ্ন, আর আন্দোলনকারীদের কাছে সেটি ছিল স্বাধীন ভারতের স্বপ্নের প্রতীক। এই সময় থেকেই পতাকা হাতে মিছিলের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা এবং জাতীয় পতাকা-কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির ভিত সেখানেই তৈরি হয়।

১৯৩১ সালে জাতীয় পতাকার ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। কংগ্রেস একটি নতুন তিরঙ্গা গ্রহণ করে। উপর থেকে গেরুয়া, সাদা এবং সবুজ—এই তিনটি রঙের অনুভূমিক বিন্যাসের মাঝখানে রাখা হয় চরকা। এই পতাকার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছিল যে রংগুলিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত নয়। পতাকাটিকে একটি বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এই ১৯৩১ সালের পতাকাই পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি হয়ে ওঠে।

এরপর আসে ১৯৪৭ সাল। স্বাধীনতার সময় যত এগিয়ে আসছিল, ততই প্রয়োজন হয়ে পড়ছিল এমন একটি পতাকার, যা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতীক হতে পারে। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জওহরলাল নেহরু ভারতের জাতীয় পতাকার প্রস্তাব পেশ করেন। গেরুয়া, সাদা এবং গাঢ় সবুজ—তিনটি সমান অনুভূমিক অংশের মাঝখানে নীল রঙের অশোকচক্র রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়। পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত নির্ধারণ করা হয় ৩:২।

এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। ১৯৩১ সালের পতাকার মাঝখানে থাকা চরকার জায়গা নেয় অশোকচক্র। সারনাথের অশোকস্তম্ভের ধর্মচক্র থেকে নেওয়া এই প্রতীকে ছিল ২৪টি কাঁটা। চরকা স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বদেশি এবং আত্মনির্ভরতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হলেও অশোকচক্র স্বাধীন রাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত ঐতিহাসিক ও নৈতিক পরিচয়কে তুলে ধরার প্রতীক হয়ে ওঠে। ফলে স্বাধীন ভারতের পতাকা একই সঙ্গে অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখল এবং নতুন রাষ্ট্রের পরিচয়ও প্রকাশ করল।

এরপর আসে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট। ভারত স্বাধীন হল। যে পতাকা কয়েক দশক ধরে স্বাধীনতা আন্দোলনের মিছিল, সভা এবং প্রতিবাদের মধ্যে মানুষের হাতে ঘুরেছে, সেই পতাকাই এবার স্বাধীন দেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে নতুন মর্যাদা পেল। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক থেকে তিরঙ্গা পরিণত হল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারি পরিচয়ে।

স্বাধীনতার আগে পতাকা হাতে মিছিল ছিল মূলত স্বাধীনতার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অংশ। স্বাধীনতার পরে সেই একই পতাকা ধীরে ধীরে নতুন অর্থ পেতে শুরু করল। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান, স্কুলের কর্মসূচি, সরকারি আয়োজন, সামাজিক সংগঠনের শোভাযাত্রা এবং সাধারণ মানুষের উদযাপনে তিরঙ্গা জায়গা করে নিল। অর্থাৎ স্বাধীনতার সঙ্গে তিরঙ্গার সম্পর্ক শেষ হয়নি; বরং তার ভূমিকা বদলে গিয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এই দীর্ঘ ইতিহাসের পরবর্তী বড় অধ্যায় শুরু হয় ২০২২ সালে। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুরু হয় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় পতাকাকে শুধু সরকারি ভবন বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। সেই কর্মসূচির সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় তিরঙ্গা যাত্রা, তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি, পদযাত্রা এবং নানা ধরনের জনসম্পৃক্ত অনুষ্ঠানও যুক্ত হয়। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় যে পতাকা মানুষের হাতে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে উঠেছিল, বহু দশক পরে সেটিই আবার ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের কেন্দ্র হয়ে সামনে আসে।

এই জায়গা থেকেই আজকের তিরঙ্গা যাত্রার ইতিহাসকে বোঝা যায়। এর কোনও একক প্রতিষ্ঠাবর্ষ বা একক প্রতিষ্ঠাতা নেই। তিরঙ্গা হাতে মিছিলের শিকড় স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে, আর ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ নামে সংগঠিত আধুনিক কর্মসূচি সাম্প্রতিক দশকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। ১৯০৬ সালের কলকাতার সেই প্রথম দিকের জাতীয় পতাকা থেকে ১৯৪৭ সালের স্বাধীন ভারতের তিরঙ্গা, আর সেখান থেকে ২০২২ সালের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’—এই দীর্ঘ পথ পেরিয়েই আজকের তিরঙ্গা যাত্রার সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।

স্বাধীনতার পরে তিরঙ্গা আর শুধু রাষ্ট্রের প্রতীক হয়ে থাকেনি। ধীরে ধীরে এটি সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন, বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শোভাযাত্রারও অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তবে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পতাকা হাতে মিছিলের যে রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল, স্বাধীনতার পরে তার চরিত্র বদলে যায়। তখন আর ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য পতাকা হাতে রাস্তায় নামতে হয়নি; স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের জাতীয় পরিচয় উদ্‌যাপন করাই হয়ে ওঠে মূল বিষয়। বিভিন্ন শহর ও রাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের আগে বা ১৫ অগস্টকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে পতাকা মিছিল, পদযাত্রা এবং বাইক র‍্যালি চলতে থাকে। অর্থাৎ তিরঙ্গা যাত্রার কোনও একক সূচনাবিন্দু তৈরি হয়নি, বরং স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে নানা ধরনের স্থানীয় কর্মসূচির মধ্যে এই সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

এই জায়গায় ২০২২ সাল একটি বিশেষ মোড় তৈরি করে। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অধীনে শুরু হয় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই উদ্যোগের আহ্বান জানান। লক্ষ্য ছিল ২০২২ সালের ১৩ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা। এর পিছনে শুধু স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের ভাবনা ছিল না; জাতীয় পতাকার সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যও ছিল। এতদিন তিরঙ্গার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেকটাই সরকারি ভবন, বিদ্যালয়, সেনা প্রতিষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ সেই পতাকাকে ঘরের দরজায়, বারান্দায় এবং ব্যক্তিগত পরিসরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।

এই কর্মসূচির পরিসরও ছিল বিশাল। ২০২২ সালে সরকারের পরিকল্পনা ছিল প্রায় ২০ কোটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা পৌঁছে দেওয়ার। মানুষকে বাড়িতে পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকার সঙ্গে ছবি তুলে নির্দিষ্ট পোর্টালে জমা দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছিল। ১৫ অগস্ট ২০২২-এর মধ্যে ওই পোর্টালে ৫ কোটিরও বেশি ‘তিরঙ্গা সেলফি’ জমা পড়ে। সংখ্যাটি শুধু একটি সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক প্রচারের সাফল্য বোঝায় না; জাতীয় পতাকাকে কেন্দ্র করে কত বড় পরিসরে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল, তারও একটি ধারণা দেয়।

কিন্তু ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ শুধু বাড়িতে পতাকা তোলার কর্মসূচি হয়ে থাকেনি। খুব দ্রুত এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন ধরনের জনসমাগম এবং শোভাযাত্রা। ২০২২ সালের ৩ অগস্ট দিল্লিতে সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ বাইক র‍্যালি আয়োজন করা হয়। লালকেল্লা থেকে শুরু হওয়া সেই র‍্যালি ইন্ডিয়া গেটের দিকে যায়। উপরাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু এর সূচনা করেন এবং একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ তাতে অংশ নেন। জাতীয় পতাকা হাতে মোটরবাইকে এই ধরনের সংগঠিত র‍্যালি পরবর্তী সময়ে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’কে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।

এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে তিরঙ্গা যাত্রা, বাইক র‍্যালি, সাইকেল র‍্যালি এবং পদযাত্রা দেখা যেতে থাকে। কোথাও স্থানীয় প্রশাসন, কোথাও রাজনৈতিক সংগঠন, কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবার কোথাও সামাজিক সংগঠন এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করে। ফলে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ কোনও একটি সংগঠন বা দলের একচেটিয়া কর্মসূচি নয়। একই নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের মতো করে জাতীয় পতাকা নিয়ে যাত্রা আয়োজন করেছে। এই কারণেই তিরঙ্গা যাত্রার ইতিহাস লিখতে গিয়ে ২০২২ সালকে এর জন্মবছর বলা ঠিক নয়। বরং ২০২২ সালকে বলা যায় এমন একটি সময়, যখন পতাকা-কেন্দ্রিক জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নতুন করে সর্বভারতীয় মাত্রা পায় এবং ‘হর ঘর তিরঙ্গা’র সঙ্গে তিরঙ্গা যাত্রা একটি পরিচিত জনউদযাপনের রূপ পেতে শুরু করে।

পশ্চিমবঙ্গেও এই পরিবর্তনের আলাদা ইতিহাস রয়েছে। ২০২২ সালেই কলকাতায় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি দফতরের উদ্যোগে তিরঙ্গা প্রদর্শন করে র‍্যালি হয়েছিল। ১৩ অগস্ট কলকাতায় কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি তিরঙ্গা র‍্যালির আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ ২০২২ সালেই কলকাতার রাজপথে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পতাকা-কেন্দ্রিক জনকর্মসূচির উপস্থিতি দেখা যায়।

একই সময়ে তিরঙ্গা যাত্রা রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত হতে শুরু করে। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উদ্যোগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি এবং তিরঙ্গা যাত্রা হয়েছিল। একটি র‍্যালিকে ঘিরে পুলিশের অনুমতি সংক্রান্ত বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে—জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদযাপনের অংশ, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিরঙ্গা যাত্রাকে ব্যবহার করতে পারে। ফলে একই নামের কর্মসূচির উদ্দেশ্য, আয়োজক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জায়গাভেদে আলাদা হতে পারে।

২০২৬ সালে এই ইতিহাস আরও একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গে এ বছর প্রথমবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ৯ অগস্ট থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, কলকাতা পুরসভা, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। তিরঙ্গা র‍্যালির পাশাপাশি প্রভাতফেরি, সাইকেল ও ই-বাইক মিছিল, জাতীয় পতাকার ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী, কুইজ, ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বাস টার্মিনাস এবং বাজার এলাকাতেও তিরঙ্গা-ভিত্তিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই বছর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পতাকা বিতরণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কলকাতায় ১০ অগস্ট বিকেল ৩টেয় একটি বড় তিরঙ্গা র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার নেতাজি মূর্তি থেকে শুরু হওয়ার কথা এই যাত্রার। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিংয়ের উপর বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ এই কর্মসূচি এখন শুধু একটি প্রতীকী পদযাত্রা নয়; এর জন্য আলাদা প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হচ্ছে।

তবে ২০২৬ সালের কলকাতার তিরঙ্গা যাত্রার ইতিহাসকে শুধু এই একটি দিনের কর্মসূচি দিয়ে দেখলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ কলকাতার সঙ্গে জাতীয় পতাকার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল প্রায় ১২০ বছর আগেই। ১৯০৬ সালে এই শহরেই স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একটি পতাকা প্রকাশ্যে উত্তোলন করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতের তিরঙ্গা সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু করে। তার বহু দশক পরে ২০২২ সালে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ পতাকাকে আবার সাধারণ মানুষের ঘরের সঙ্গে যুক্ত করে। আর ২০২৬ সালে সেই পতাকা কলকাতার রাজপথে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে একটি সংগঠিত জনযাত্রার রূপ নিয়েছে।

এই দীর্ঘ পথের দিকে তাকালে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’কে কোনও একটি নির্দিষ্ট দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেখার বদলে একটি পরিবর্তনশীল ঐতিহাসিক ধারার অংশ হিসেবে দেখা যায়। স্বাধীনতার আগে পতাকা ছিল আন্দোলনের দৃশ্যমান প্রতীক। স্বাধীনতার পরে সেটি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রতীক এবং জাতীয় দিবসের উদযাপনের কেন্দ্র। ২০২২ সালের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ সেটিকে আরও ব্যক্তিগত পরিসরে নিয়ে যায়, আর তার সঙ্গে যুক্ত তিরঙ্গা যাত্রা পতাকাকে আবার রাস্তায়, মানুষের সমাবেশে এবং জনজীবনের দৃশ্যপটে ফিরিয়ে আনে। ২০২৬ সালের কলকাতার আয়োজন সেই ধারারই সাম্প্রতিকতম বড় প্রকাশ।

09/08/2026

একদিকে ক্যামেরার সামনে রিল বানাতে ব্যস্ত এক মহিলা, অন্যদিকে তাঁর পিছনেই হামাগুড়ি দিতে দিতে সেতুর কিনারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ছোট্ট একটি শিশু। কয়েক সেকেন্ডের এই দৃশ্যই এখন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিশুটি ধীরে ধীরে বিপজ্জনক প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময় পিছনে থাকা এক ব্যক্তি বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং শিশুটিকে কোলে তুলে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেন। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রিল তৈরির সময় শিশুর নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছিল কি না। তবে ভিডিওটি কোথায় এবং ঠিক কবে রেকর্ড করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকী, মহিলার উদ্দেশ্য কী ছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাই ভাইরাল ভিডিও দেখে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট জানা জরুরি।

----

রিল বানাতে ব্যস্ত এক মহিলা। আর তাঁর ঠিক পিছনেই ধীরে ধীরে সেতুর কিনারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি ছোট্ট শিশু। মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। পরে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ৯ অগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভিডিওতে মহিলাকে নিজের রিল রেকর্ড করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, শিশুটি হামাগুড়ি দিতে দিতে সেতুর বিপজ্জনক প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মহিলা নিজের দিকেই ক্যামেরা রেখে রেকর্ডিং করছেন। তাঁর পিছনে থাকা শিশুটি তখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে শিশুটি সেতুর অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অংশে থাকলেও কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কিনারার অনেকটাই কাছে চলে আসে। মহিলার নজর তখনও নিজের রেকর্ডিংয়ের দিকেই ছিল বলে ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে। তবে ঠিক কতক্ষণ ধরে শিশুটি সেখানে ছিল, কিংবা ভিডিও শুরুর আগে কী ঘটেছিল, তা প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়নি।

পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই পিছনে থাকা এক ব্যক্তি বিষয়টি দেখতে পান। তিনি দ্রুত শিশুটির দিকে এগিয়ে যান এবং তাকে কোলে তুলে সেতুর কিনারা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির তৎপরতার কারণেই সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভিডিওতে শিশুটিকে উদ্ধারের এই মুহূর্তটিও দেখা যায়।

ভিডিওটি এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ার পরেই শুরু হয় সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ছোট শিশুকে নিয়ে এমন বিপজ্জনক জায়গায় থাকলে অভিভাবক বা সঙ্গে থাকা ব্যক্তির নজর কতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কয়েকজনের বক্তব্য, কয়েকটি লাইক বা মন্তব্যের জন্য তৈরি করা একটি রিল যেন কোনওভাবেই শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হয়ে ওঠে। আবার অনেকে মনে করিয়েছেন, ছোট শিশুরা খুব দ্রুত বিপজ্জনক জায়গার দিকে চলে যেতে পারে, তাই সেতু, রাস্তা, সিঁড়ি, উঁচু জায়গা কিংবা জলাশয়ের কাছে তাদের উপর সবসময় নজর রাখা জরুরি।

তবে এই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে এসেছে। ঠিক কোথায় এবং কবে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে শুধু কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজ দেখে ওই মহিলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটিকে বিপদের মধ্যে রেখেছিলেন, এমন দাবিরও কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাই ঘটনাটিকে আপাতত ভাইরাল ভিডিওতে দেখা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে রিল তৈরির প্রবণতা নিয়ে। দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে প্রকাশ করার অভ্যাস এখন অনেকের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই রেকর্ডিংয়ের সময় আশপাশে থাকা শিশু বা অন্য কারও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে সেতুর কিনারায় এগিয়ে যাওয়া শিশুটির এই ভিডিও।

09/08/2026

আজ সারাদিন টিভি নিউজ চ্যানেলে শুধু নাটকই দেখা গেলো, অভয়ার বিচার ছাড়া

09/08/2026

ইউটিউব ক্রিয়েটর কালেক্টিভ ২০২৬

09/08/2026

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিও দেখে চমকে উঠেছেন অনেকেই। দাবি, জাপানের ২৬ বছরের এক যুবক নাকি নিজেকে কুকুরে পরিণত করতে খরচ করেছেন ২২০ কোটি টাকা! এমনকী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীরে আনা হয়েছে স্থায়ী পরিবর্তন—এমন দাবিও ছড়িয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি মানুষ থেকে কুকুর হয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে? নাকি ভাইরাল ভিডিওর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও গল্প?

তদন্তে সামনে এসেছে জাপানের টোকো নামে এক ব্যক্তির পুরনো ঘটনা। তিনি প্রায় ২০ লক্ষ জাপানি ইয়েন খরচ করে জেপেট নামে একটি সংস্থার কাছ থেকে তৈরি করিয়েছিলেন অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কলি কুকুরের পোশাক। পোশাকটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৪০ দিন। অর্থাৎ ২২০ কোটি টাকার অস্ত্রোপচারের গল্পের সঙ্গে সেই ঘটনার কোনও মিল নেই। তাহলে নতুন করে ছড়ানো এই দাবির উৎস কোথায়? পুরো বিষয়টি জানলে ভাইরাল ভিডিওটি অন্য চোখে দেখতে হবে।

----

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এখন তুমুল চর্চা। দাবি করা হচ্ছে, জাপানের ২৬ বছরের এক কোটিপতি ‘জ্যাসো’ নাকি নিজেকে কুকুরের মতো দেখতে ও সেই ভাবে জীবনযাপন করতে প্রায় ২২০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। শুধু পোশাক নয়, একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাকি তাঁর শরীরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভাইরাল পোস্টে এমনভাবে ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে, যেন একজন মানুষ চিকিৎসার সাহায্যে ধীরে ধীরে কুকুরে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এই দাবির পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-নথি বা অস্ত্রোপচারের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। ৯ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত দ্য ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পক্ষেও ভাইরাল ভিডিও এবং দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভাইরাল গল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হল ২২০ কোটি টাকার অঙ্কটি। পোস্টগুলিতে বলা হচ্ছে, জ্যাসো নিজের চেহারা ও আচরণ কুকুরের মতো করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। কোথাও অস্ত্রোপচারের কথা বলা হয়েছে, আবার কোনও কোনও সংস্করণে বলা হয়েছে, আসলে তিনি এমন একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাক ব্যবহার করছেন, যা দূর থেকে দেখলে আসল কুকুর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই দুই দাবির মধ্যেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ নেই। ফলে ২২০ কোটি টাকা খরচ করে স্থায়ীভাবে শরীরের পরিবর্তন করার গল্পটি এখন পর্যন্ত প্রমাণিত ঘটনা নয়।

তাহলে এই অদ্ভুত গল্পের সঙ্গে জাপানের কোন বাস্তব ঘটনার মিল রয়েছে? সূত্র খুঁজতে গিয়ে সামনে আসে ‘টোকো’ নামে এক জাপানি ব্যক্তির ঘটনা। ২০২২ সালে টোকো নিজের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ করতে জাপানের বিশেষ পোশাক নির্মাতা সংস্থা জেপেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল এমন একটি পোশাক তৈরি করা, যাতে সেটি পরলে তাঁকে দেখতে একেবারে কুকুরের মতো লাগে। জেপেট সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও বিনোদনমূলক কাজের জন্য বিশেষ পোশাক, মডেল এবং আকৃতি তৈরি করে থাকে। টোকোর জন্য তারা একটি বাস্তবসম্মত কলি কুকুরের পোশাক তৈরি করে।

এই পোশাক তৈরিতে সময় লেগেছিল প্রায় ৪০ দিন এবং খরচ হয়েছিল প্রায় ২০ লক্ষ জাপানি ইয়েন। ভারতীয় মুদ্রায় সেই অঙ্ক প্রায় ১১ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ভাইরাল দাবিতে যে ২২০ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার খরচের পার্থক্য কয়েকশো গুণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, টোকোর ক্ষেত্রে কোনও অস্ত্রোপচার হয়নি। তিনি পোশাকটি পরেই নিজেকে কুকুরের মতো দেখাতেন এবং চার পায়ে হাঁটা, মেঝেতে গড়াগড়ি দেওয়া কিংবা কুকুরের মতো বিভিন্ন আচরণের ভিডিও প্রকাশ করতেন।

জেপেটের তৈরি পোশাকটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে সেটি তৈরির সময় কলি কুকুরের বিভিন্ন দিক থেকে তোলা ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। কুকুরের শরীরের গঠন, লোমের বিন্যাস এবং চার পায়ে হাঁটার সময় শরীরের যে আকৃতি তৈরি হয়, সেগুলিও মাথায় রাখা হয়েছিল। পোশাকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের শরীরের গঠন যতটা সম্ভব আড়াল করে একটি আসল কলি কুকুরের মতো চেহারা তৈরি করা যায়।

টোকো পরে নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় এই পোশাক পরে নানা ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। একটি ভিডিওতে তাঁকে আসল কুকুরের কাছাকাছি যেতেও দেখা যায়। সেখানে কুকুরটি প্রথমে তাঁকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে পিছিয়ে যায়। এই ধরনের ভিডিওই তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে। ২০২৩ সালে তাঁর জনসমক্ষে কুকুরের পোশাক পরে হাঁটার ভিডিওও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম স্পষ্ট করেছিল যে এটি কোনও চিকিৎসাগত রূপান্তর নয়, বরং অত্যন্ত নিখুঁত একটি বিশেষ পোশাক।

ফলে ২০২৬ সালে নতুন করে ছড়ানো ‘২৬ বছরের জ্যাসো’, ‘২২০ কোটি টাকা’ এবং ‘অস্ত্রোপচার করে কুকুর হয়ে যাওয়া’—এই তিনটি দাবির সঙ্গে ২০২২ সালের টোকোর প্রকৃত ঘটনার একাধিক জায়গায় মিল নেই। টোকোর ক্ষেত্রে বয়স ২৬ বছরের জ্যাসো নয়, খরচ ২২০ কোটি টাকা নয় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীর পরিবর্তনেরও কোনও ঘটনা নেই। বাস্তব ঘটনাটি ছিল প্রায় ২০ লক্ষ ইয়েনের একটি বিশেষ কুকুরের পোশাক, যা তৈরি করতে প্রায় ৪০ দিন সময় নিয়েছিল জেপেট।

09/08/2026

মালদহের উইমেন্স কলেজ রোডে সন্ধ্যা নামলেই বসে ছোট্ট একটি মোমোর স্টল। দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়, মেনুকার্ড, ইশারায় অর্ডার নেওয়া—সবই হয়, তবে শোনা যায় না কোনও কথোপকথন। কারণ এই দোকান চালান জ্যোতির্ময় চৌধুরী ও মায়ারানী চৌধুরী, দু’জনেই কথা বলতে ও শুনতে পারেন না। তবু সেই সীমাবদ্ধতাকে জীবিকার পথে বাধা হতে দেননি তাঁরা। মেনুকার্ড, ইশারা, হাসি এবং অনলাইন পেমেন্টের সাহায্যে প্রতিদিন সামলাচ্ছেন নিজেদের ছোট্ট ব্যবসা।

৩৮ বছরের জ্যোতির্ময় এবং মায়ারানীর এই উদ্যোগ শুধু মোমো বিক্রির গল্প নয়। এটি নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা, পরিশ্রম এবং আত্মনির্ভরতার গল্প। যেখানে শব্দের প্রয়োজন নেই, সেখানে কাজই হয়ে উঠেছে তাঁদের পরিচয়। মালদহের এই দম্পতির ছোট্ট স্টল তাই প্রতিদিন দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিস্থিতি কঠিন হলেও নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করার ইচ্ছেটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

----

মালদহের রাস্তার ধারে সন্ধ্যা নামলেই দেখা যায় ছোট্ট একটি মোমোর স্টল। সেখানে অন্য অনেক দোকানের মতো ক্রেতা-বিক্রেতার কথোপকথন শোনা যায় না। কারণ এই দোকান চালান এমন এক দম্পতি, যাঁরা দু’জনেই কথা বলতে ও শুনতে পারেন না। কিন্তু যোগাযোগের এই সীমাবদ্ধতা তাঁদের উপার্জনের পথ আটকাতে পারেনি। বরং মোমো বিক্রিকেই তাঁরা বেছে নিয়েছেন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর উপায় হিসেবে।

দম্পতির নাম জ্যোতির্ময় চৌধুরী এবং মায়ারানী চৌধুরী। জ্যোতির্ময়ের বয়স ৩৮ বছর। মালদহ শহরের উইমেন্স কলেজ রোড এলাকায় সন্ধ্যার সময় তাঁদের মোমোর স্টল বসে। দিনের ব্যস্ততা কমে রাস্তার পাশে যখন খাবারের দোকানগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করে, তখনই তাঁদের ছোট্ট ব্যবসাতেও ক্রেতা আসতে থাকেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি কথা বলা বা ক্রেতার কথা শোনা সম্ভব না হলেও ব্যবসা চালানোর নিজস্ব পদ্ধতি তৈরি করে নিয়েছেন তাঁরা।

একজন ক্রেতা দোকানে এসে মোমো চাইলে কথার বদলে সামনে থাকে মেনুকার্ড। কী খাবার পাওয়া যাচ্ছে, তা দেখে ক্রেতা নিজের পছন্দ জানাতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ইশারার মাধ্যমেও চলে যোগাযোগ। মুখের হাসি এবং হাতের ইশারা হয়ে ওঠে তাঁদের কথাবলার মাধ্যম। ফলে শব্দ ছাড়াই ক্রেতার অর্ডার নেওয়া থেকে খাবার পরিবেশন, পুরো প্রক্রিয়াটাই সামলে নেন তাঁরা।

এই ছোট্ট স্টলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা। ফলে নগদ টাকা না থাকলেও ক্রেতারা ডিজিটাল মাধ্যমে দাম মেটাতে পারেন। প্রযুক্তির এই ব্যবহার তাঁদের ব্যবসাকে আরও সহজ করেছে। একজন ক্রেতার সঙ্গে কথোপকথন যেখানে অন্য দোকানের স্বাভাবিক বিষয়, সেখানে এই দম্পতির ক্ষেত্রে মেনুকার্ড, ইশারা এবং ডিজিটাল লেনদেন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা একটি কাজের পদ্ধতি।

তাঁদের গল্পের গুরুত্ব শুধু এই কারণে নয় যে তাঁরা দু’জনে মিলে মোমো বিক্রি করছেন। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁদের কাজের ধরন এবং স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের নিয়ে অনেক সময় সমাজের আলোচনায় সাহায্য, সহানুভূতি কিংবা নির্ভরতার বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু জ্যোতির্ময় ও মায়ারানীর এই উদ্যোগে সামনে এসেছে অন্য একটি ছবি—নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে উপার্জন করার চেষ্টা।

মালদহের উইমেন্স কলেজ রোডের সেই ছোট্ট দোকানে তাই মোমো বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন চলছে আরও একটি লড়াই—যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কাজের জায়গায় নিজের পরিচয় তৈরি করার লড়াই। ক্রেতার সঙ্গে কথা না বলেও ব্যবসা করা যায়, শ্রবণশক্তি ও বাক্‌শক্তির সীমাবদ্ধতা থাকলেও নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করা যায়—এই বাস্তব ছবিটাই তাঁদের দোকানকে অন্যরকম করে তুলেছে।

জ্যোতির্ময় ও মায়ারানীর ক্ষেত্রে মোমোর স্টল শুধুমাত্র একটি খাবারের দোকান নয়। এটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি উপার্জনের পথ, যেখানে প্রতিটি অর্ডার নেওয়া, প্রতিটি প্লেট মোমো পরিবেশন এবং প্রতিটি লেনদেন তাঁদের নিজেদের মতো করে এগিয়ে চলার একটি অংশ।

Want your business to be the top-listed Media Company in Behala?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Behala