Atanu Sen
Story Teller
ভগবান ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা
প্রমান ও যুক্তি ছাড়া কথা বলিনা
নেতাজি ছাড়া কাউকে নেতা মানিনা
1 ) Member Of West Bengal Motion Pictures Artist Forum
2 ) Member Of Bengal Film And Television Chamber Of Commerce
সিনেমা , রাজনীতি , ধর্ম ও ইতিহাস, নিয়ে কথা বলি
'হোপ '৮৬'-এর সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ছিল কিশোর কুমার-এর মঞ্চে ওঠা। খাঁটি বাঙালি হয়েও সেই সময় তিনি ছিলেন গোটা ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। সল্টলেক স্টেডিয়ামে তাঁর আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষাধিক দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক। নিজের স্বভাবসুলভ প্রাণবন্ত ভঙ্গি, হাস্যরস আর অনবদ্য কণ্ঠে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে দেন। তাঁর গানের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে গলা মেলান, আর বিশাল স্টেডিয়াম যেন মুহূর্তের জন্য এক বিশাল সুরের আসরে পরিণত হয়। অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিতে, সেটিই ছিল 'হোপ '৮৬'-এর সবচেয়ে আবেগঘন ও উচ্ছ্বাসময় পরিবেশনাগুলোর একটি, যা আজও কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
Atanu Sen Atanu Alok Sen Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra Atanu Sen Atanu Sen ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
#হোপ৮৬ #কিশোরকুমার #কিশোর
#কলকাতা #বাংলারইতিহাস #স্মৃতিরপাতা
04/08/2026
মহিষাসুরমর্দিনীর জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেলেও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কর্মজীবন ছিল তার চেয়ে অনেক বিস্তৃত। আকাশবাণী কলকাতায় তিনি অসংখ্য বেতার নাটক রচনা, রূপান্তর, নির্দেশনা ও প্রযোজনা করেছেন। তাঁর পরিচালিত নাটকগুলিতে সাহিত্য, সংগীত, আবৃত্তি এবং অভিনয়ের অসাধারণ সমন্বয় দেখা যেত। 'বিরূপাক্ষ' ছদ্মনামে লেখা তাঁর হাস্যরসাত্মক রচনা ও ব্যঙ্গধর্মী অনুষ্ঠানও সে সময়ের শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। একইসঙ্গে তিনি চলচ্চিত্রেও গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে কাজ করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন।
Atanu Alok Sen Atanu Sen
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল কণ্ঠের অভিব্যক্তি এবং সংস্কৃত ভাষার অসাধারণ দখল। প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ, প্রতিটি বিরতি এবং প্রতিটি আবেগকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যা শ্রোতার মনে গভীর ছাপ ফেলত। তাই তাঁর চণ্ডীপাঠ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এক অনন্য শিল্পসৃষ্টিতে পরিণত হয়েছিল। আজও অসংখ্য আবৃত্তিশিল্পী তাঁর উচ্চারণভঙ্গি, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা এবং পাঠরীতিকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যদিও তাঁর সমতুল্য হয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়।
Atanu Sen Atanu Sen
১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর তাঁর জীবনাবসান হলেও তাঁর সৃষ্টি আজও অমর। রেডিও থেকে ক্যাসেট, সিডি, টেলিভিশন, ইউটিউব, ডিজিটাল স্ট্রিমিং—প্রযুক্তি যতই বদলেছে, মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ শোনার ঐতিহ্য কখনও ভাঙেনি। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালির কাছেও তাঁর কণ্ঠ দেবীপক্ষের সূচনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মও প্রতি বছর একই আবেগ নিয়ে তাঁর কণ্ঠে দেবীর আহ্বান শোনে।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
ভারতীয় বেতার সম্প্রচারের ইতিহাসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব, আর বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর অবদান কেবল একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বাংলা ভাষা, আবৃত্তি, বেতার নাটক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, যা সময়ের সঙ্গে আরও উজ্জ্বল হয়েছে। যতদিন মহালয়ার ভোরে দেবীপক্ষের সূচনা হবে, ততদিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর কণ্ঠ বাঙালির হৃদয়ে একই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগ নিয়ে বেঁচে থাকবে।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
#বীরেন্দ্রকৃষ্ণভদ্র #মহিষাসুরমর্দিনী #মহালয়া #দেবীপক্ষ #দুর্গাপূজা #বাংলারঐতিহ্য #বাংলাসংস্কৃতি #চণ্ডীপাঠ #আকাশবাণী #কলকাতা #বাঙালিরআবেগ #ইতিহাস #জীবনী #আজকেরদিনে
04/08/2026
বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা নিজেদের প্রতিভার মাধ্যমে সময়কে অতিক্রম করে চিরকালীন হয়ে উঠেছেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র তাঁদের অন্যতম। ১৯০৫ সালের ৪ আগস্ট উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় তাঁর জন্ম। পিতা রায় বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন একজন বহুভাষাবিদ এবং সংস্কৃতজ্ঞ, আর মা সরলাবালা দেবীর কাছ থেকেও তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করেন। মাত্র আট বছর বয়সে ঠাকুমার কাছে চণ্ডীপাঠ শেখা শুরু করেন। পরবর্তীকালে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশোনা করলেও তাঁর প্রকৃত আকর্ষণ ছিল সাহিত্য, নাটক, আবৃত্তি ও সংস্কৃত ভাষার প্রতি। এই আগ্রহই তাঁকে সাধারণ চাকরিজীবনের পথ ছেড়ে সংস্কৃতির জগতে নিয়ে আসে।
Atanu Alok Sen Atanu Sen
রেলে অল্পদিন চাকরি করার পর তিনি তৎকালীন অল ইন্ডিয়া রেডিও, কলকাতায় যোগ দেন। সেখানে বাণীকুমার, পঙ্কজকুমার মল্লিক, কাজী নজরুল ইসলামসহ বাংলা সংস্কৃতির বহু কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। অসাধারণ কণ্ঠস্বর, শুদ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণ, অভিনয় দক্ষতা এবং নাট্যবোধের জন্য খুব অল্প সময়েই তিনি আকাশবাণীর অন্যতম প্রধান শিল্পীতে পরিণত হন। কেবল আবৃত্তিকার হিসেবেই নয়, তিনি ছিলেন নাট্যকার, বেতার-নির্দেশক, প্রযোজক ও দক্ষ অভিনেতা। 'বিরূপাক্ষ' ছদ্মনামে লেখা তাঁর ব্যঙ্গ-রসাত্মক রচনাও সে সময় যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল।
Atanu Sen Atanu Sen
১৯৩১ সালে মহালয়ার ভোরে প্রথম সম্প্রচারিত হয় 'মহিষাসুরমর্দিনী'। বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজকুমার মল্লিকের সুর এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ—এই ত্রয়ীর সম্মিলনে এমন এক সৃষ্টি জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে বাঙালির দুর্গাপূজার সূচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। তাঁর কণ্ঠে 'দেবীসূক্ত', 'চণ্ডীপাঠ' ও স্তোত্রপাঠ এতটাই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল যে, বহু মানুষ বিশ্বাস করতেন মহালয়ার ভোর তাঁর কণ্ঠ ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। সেই কণ্ঠ শুধু ধর্মীয় আবহ নয়, বাঙালির আবেগ, স্মৃতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
১৯৭৬ সালে তাঁর পরিবর্তে উত্তম কুমার-কে দিয়ে মহালয়ার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রবল জনরোষ ও অসন্তোষের মুখে আকাশবাণী দ্রুত আবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠেই 'মহিষাসুরমর্দিনী' ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তাঁর কণ্ঠ কেবল একজন শিল্পীর কণ্ঠ ছিল না; সেটি ছিল বাঙালির ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং আবেগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার বিকল্প আজও সৃষ্টি হয়নি।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
#বীরেন্দ্রকৃষ্ণভদ্র #মহিষাসুরমর্দিনী #মহালয়া #দেবীপক্ষ #দুর্গাপূজা #বাংলারঐতিহ্য #বাংলাসংস্কৃতি #চণ্ডীপাঠ #আকাশবাণী #কলকাতা #বাঙালিরআবেগ #ইতিহাস #জীবনী #আজকেরদিনে
04/08/2026
১৯৮৬ সালের শীতের সেই সন্ধ্যায় কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়াম যেন আর শুধুই একটি ক্রীড়াঙ্গন ছিল না, তা পরিণত হয়েছিল ভারতীয় বিনোদন জগতের সবচেয়ে বড় মিলনমেলায়। হাজার হাজার দর্শকের উচ্ছ্বাস, অসংখ্য আলোর ঝলকানি আর একের পর এক তারকার আগমনে গোটা শহর যেন উৎসবের রূপ নিয়েছিল। 'হোপ '৮৬' ছিল এমন এক স্বপ্নের মঞ্চ, যেখানে বলিউড ও টলিউডের দূরত্ব মুহূর্তেই মুছে গিয়েছিল। মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র শিল্পে চলা দীর্ঘ ধর্মঘটে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার সিনেমা কর্মী এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী, যার পাশে দৃঢ়ভাবে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। বিনোদনের সঙ্গে মানবিকতার এমন মেলবন্ধন সে সময়ে ছিল সত্যিই বিরল।
Atanu Alok Sen Atanu Sen
সেদিন কলকাতার আকাশের নিচে এক মঞ্চে দেখা মিলেছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের। অমিতাভ বচ্চন, রেখা, মিঠুন চক্রবর্তী, শ্রীদেবী, ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র থেকে শুরু করে বহু তারকার উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম যেন এক বিশাল চলচ্চিত্র উৎসবে পরিণত হয়েছিল। সুরের জাদু ছড়িয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আর সঙ্গীত পরিচালনার কিংবদন্তি রাহুল দেব বর্মন, বাপ্পী লাহিড়ী, লক্ষ্মীকান্ত কুদালকর ও কল্যাণজি বিরজি শাহ-এর উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে ইতিহাসে অমর করে দেয়। লক্ষাধিক দর্শকের করতালি প্রমাণ করে দিয়েছিল, কলকাতা এমন আয়োজনের জন্য কতদিন অপেক্ষা করছিল।
Atanu Sen Atanu Sen
এই অনুষ্ঠান শুধু তারকাদের উপস্থিতির জন্য নয়, বহু ঐতিহাসিক ঘটনারও সাক্ষী। ভারতের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা জনি লিভার এই মঞ্চেই তাঁর দুর্দান্ত মিমিক্রির মাধ্যমে সর্বভারতীয় পরিচিতি পান। আবার অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগেই প্রয়াত অভিনেত্রী স্মিতা পাতিল-এর স্মৃতিতে শিল্পীদের শ্রদ্ধার্ঘ্য গোটা পরিবেশকে আবেগে ভরিয়ে তুলেছিল। প্রথম দিনের প্রবল বৃষ্টিতে অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো এত বড় আয়োজন আর সম্ভব হবে না। কিন্তু পরদিন নতুন উদ্যমে শুরু হওয়া সেই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করে দেয়—প্রকৃতির বাধাও মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে পারে।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
আজও 'হোপ '৮৬' কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, কলকাতার গৌরবময় ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মৃতি। সেই এক সন্ধ্যায় শহরটি যেন ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানীর মর্যাদাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করেছিল। আজকের যুগে প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া ও আধুনিক মঞ্চসজ্জা অনেক এগিয়ে গেলেও, একসঙ্গে এত কিংবদন্তি শিল্পী, এত বিশাল জনসমাগম এবং এত বড় মানবিক উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়। তাই চার দশক পরেও 'হোপ '৮৬' শুধু স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি নয়; এটি কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্পীদের ঐক্য এবং মানুষের জন্য শিল্পের শক্তির এক অবিস্মরণীয় প্রতীক হয়ে আজও বেঁচে আছে।এই লেখাটি ইউটিউব ডকুমেন্টারি বা ফেসবুক লং-পোস্টের জন্যও খুব উপযোগী হবে।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
#জ্যোতিবসু #কিশোর #মিঠুন
#বিজেপি #সিপিআইএম #কংগ্রেস #তৃণমূল
03/08/2026
১৯৮৭ সাল। কিশোর কুমার তখন ৫৮ বছর বয়সী। তিনি ঠিক করেছিলেন আর হিন্দি সিনেমার জন্য গাইবেন না, খান্ডোয়ায় ফিরে গিয়ে চাষবাস করবেন, নিজের মতো থাকবেন। তিনি তাঁর শেষ গানগুলি রেকর্ড করছিলেন। এই সময়ে তিনি অমিত কুমারের ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন। তাঁর শেষ কয়েক বছরে রেকর্ড করা গান যেমন 'আজ কা দিন', 'গুরুদেব', 'চেহেরে পে গিরি' আজও প্রমাণ করে যে তাঁর কণ্ঠে বয়সের কোনো ছাপ পড়েনি।
Atanu Alok Sen Atanu Sen
১৩ই অক্টোবর, ১৯৮৭। দিনটি ছিল তাঁর ভাই অশোক কুমারের ৭৭তম জন্মদিন। সকাল থেকেই কিশোর কুমার বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। দুপুরে তিনি লীনা চন্দ্রভারকরের সঙ্গে বসে একটি নতুন গানের কথা আলোচনা করছিলেন। হঠাৎই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাংলো 'গৌরী কুঞ্জ'-এই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
Atanu Sen Atanu Sen
তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে। তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী খান্ডোয়াতেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তাঁর জীবনে তিনি ৮টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন, ২,৯০০-এরও বেশি গান গেয়েছেন ১৮টি ভাষায়। তিনি একাধারে গায়ক, অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, গীতিকার, সুরকার ছিলেন - যা ভারতীয় সিনেমায় বিরল। তাঁর গাওয়া গান আজও প্রতিটি বাঙালি ও ভারতীয়ের ঠোঁটে।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
কিশোর কুমারের জীবন আসলে উত্থান ও পতনের গল্প নয়, এটি এক প্রতিভার নিজের শর্তে বাঁচার গল্প। তিনি কখনও সিস্টেমের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি কেঁদেছেন, হেসেছেন, ভালোবেসেছেন, ভেঙেছেন এবং আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর পতন ছিল সাময়িক, কিন্তু তাঁর উত্থান ছিল চিরন্তন। তাই আজও যখন রেডিওতে বেজে ওঠে 'কুছ তো লোগ কহেঙ্গে', মনে হয় কিশোর কুমার কোথাও যাননি, তিনি আছেন আমাদের প্রতিটি অনুভূতিতে।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
[ kishore kumar, kishore kumar songs, kishore kumar biography in bengali, bangla kishore kumar golpo, atanu sen ]
03/08/2026
সত্তরের দশক পুরোটাই কিশোর কুমারের। রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র - সবার কণ্ঠ তখন কিশোর। 'অমর প্রেম', 'কাটি পতঙ্গ', 'অভিমান', 'ডন', 'শোলে', 'কভি কভি' - প্রতিটি ছবির হিট গানের পিছনে কিশোর। এই সময়ে তাঁর তৃতীয় বিয়ে হয় যোগিতা বালিকে, যা মাত্র দুই বছর টেকে। তারপর ১৯৮০ সালে তিনি বিয়ে করেন লীনা চন্দ্রভারকরকে। ব্যক্তিগত জীবনে অস্থিরতা চললেও পেশাগত জীবনে তিনি তখন অপ্রতিরোধ্য।
Atanu Alok Sen Atanu Sen
কিন্তু তাঁর খামখেয়ালি স্বভাব, স্পষ্টবাদী মনোভাব তাঁর জন্য বিপদ ডেকে আনে। তিনি কখনও কারও অন্যায় আবদার মানতেন না। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেস পার্টির জন্য গান গাইতে অস্বীকার করায় তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লা অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং দূরদর্শনে তাঁর গান নিষিদ্ধ করে দেন। এক বছরেরও বেশি সময় তাঁর গান কোথাও বাজেনি। যে মানুষটির গান ছাড়া সিনেমা অচল, তাঁকে নীরব করে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে খুব আঘাত করে।
Atanu Sen Atanu Sen
এই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও তাঁর ভিতরের পাগলাটে শিল্পীটি আরও একা হয়ে যান। তিনি খান্ডোয়ায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তিনি বলতেন, "বম্বে শহরটা আমাকে খেয়ে ফেলছে।" তিনি প্রযোজক ও পরিচালকদের সঙ্গে ঝগড়া, শুটিংয়ে দেরি করে আসা, অর্ধেক গান গেয়ে চলে যাওয়ার মতো কিংবদন্তি তৈরি করেন - যার পিছনে ছিল আসলে ইন্ডাস্ট্রির প্রতি এক গভীর অভিমান। এই সময়ে তিনি নিজের পরিচালিত ছবি 'বড়তি কা নাম দাড়ি', 'দূর গগন কি ছাঁও মে'-র মতো ফ্লপ ছবির জন্য আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েন।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে নতুন গায়কদের আগমন এবং মিঠুন চক্রবর্তী, অনিল কাপুরদের মতো নতুন নায়কদের জন্য নতুন কণ্ঠের খোঁজ শুরু হলে ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে তাঁর থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করে। যদিও তিনি তখনও হিট গান গাইছেন - 'সাগর', 'কুরবানি', 'শরাবি'র মতো ছবিতে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ডাক্তাররা তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলছিলেন, কিন্তু তিনি থামতে জানতেন না।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
[ kishore kumar, kishore kumar songs, kishore kumar biography in bengali, bangla kishore kumar golpo, atanu sen ]
03/08/2026
১৯৫১ থেকে ১৯৬৯ এই সময়টা হল কিশোর কুমারের প্রথম স্বর্ণযুগ। অভিনেতা হিসেবে 'নওকরি', 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ৫৫', 'চলতি কা নাম গাড়ি', 'হাফ টিকিট', 'পড়োসন'-এর মতো ছবিতে তাঁর কমেডি টাইমিং, গানের গলা এবং অসাধারণ এনার্জি তাঁকে সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। তিনি প্রমাণ করে দেন তিনি শুধু গায়ক নন, তিনি একজন সম্পূর্ণ এন্টারটেইনার। 'চলতি কা নাম গাড়ি'-তে তিন ভাই একসঙ্গে অভিনয় করে ইতিহাস তৈরি করেন।
Atanu Sen Atanu Alok Sen
গায়ক হিসেবে তাঁর আসল উত্থান শুরু হয় শচীন দেব বর্মনের হাত ধরে। ১৯৫৮ সালে 'চলতি কা নাম গাড়ি' এবং তারপর 'মুনিমজী'র 'জীবন কে সফর মে রাহি' গানটি তাঁকে রাতারাতি প্রথম সারির গায়ক করে তোলে। এরপর শচীন-দেব বর্মনের সঙ্গে তাঁর জুটি একের পর এক কালজয়ী গান উপহার দেয় - 'রূপ তেরা মস্তানা', 'খাইকে পান বনারস বালা'র আগের যুগের 'এক লড়কি ভিগি ভাগি সি'। দেব আনন্দের কণ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। দেব আনন্দ নিজেই বলেছিলেন, কিশোরের গলা ছাড়া তাঁর অভিনয় অসম্পূর্ণ।
Atanu Sen Atanu Sen
ষাটের দশকের শেষ দিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় আসে। রুমা গুহঠাকুরতার সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং ১৯৬০ সালে মধুবালার সঙ্গে বিয়ে। মধুবালা তখন অসুস্থ, হৃদয়ে ছিদ্র নিয়ে বাঁচছেন। কিশোর তাঁকে আগলে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মধুবালার অকাল মৃত্যু ১৯৬৯ সালে তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। এই ব্যক্তিগত কষ্টের প্রভাব তাঁর ক্যারিয়ারেও পড়ে। এই সময়ে মহম্মদ রফির একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে, কিশোরের কাছে খুব কম গান আসছে। অনেকে ভেবেছিলেন তাঁর অধ্যায় শেষ।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
কিন্তু এখানেই কিশোর কুমারের জেদের গল্প শুরু। তিনি নিজেকে আবার ভাঙলেন, গড়লেন। ১৯৬৯ সালে শচীন দেব বর্মনের ছেলে রাহুল দেব বর্মনের সুরে 'আরাধনা' ছবিতে রাজেশ খান্নার জন্য গাইলেন 'মেরে স্বপ্নো কি রানি' এবং 'রূপ তেরা মস্তানা'। এই দুটি গান হিন্দি সিনেমার ইতিহাস বদলে দেয়। রাতারাতি রাজেশ খান্না সুপারস্টার এবং কিশোর কুমার ভারতের এক নম্বর প্লেব্যাক গায়ক হয়ে ওঠেন। রফি-যুগের অবসান এবং কিশোর-যুগের শুরু হয় এখান থেকেই।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
[ kishore kumar, kishore kumar songs, kishore kumar biography in bengali, bangla kishore kumar golpo, atanu sen ]
03/08/2026
কিশোর কুমারের জন্ম ৪ঠা আগস্ট ১৯২৯ সালে মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায়। তাঁর আসল নাম ছিল আভাষ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। বাবা কুঞ্জলাল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন উকিল এবং মা গৌরী দেবী ছিলেন এক সাধারণ বাঙালি গৃহবধূ। পরিবারের চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। বড় দাদা অশোক কুমার তখন বম্বেতে প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা, মেজদা অনুপ কুমারও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি অত্যন্ত দুরন্ত, গান পাগল এবং কুন্দন লাল সায়গলকে অন্ধের মতো অনুকরণ করতেন।
Atanu Alok Sen Atanu Sen
পড়াশোনার জন্য তিনি প্রথমে খান্ডোয়া এবং পরে ইন্দোরের ক্রিশ্চিয়ান কলেজে যান। কিন্তু পড়াশোনায় তাঁর মন ছিল না, মন পড়ে থাকত সিনেমা আর গানে। ১৯৪৬ সালে দাদা অশোক কুমারের ডাকেই তিনি বম্বে পাড়ি দেন। বম্বে টকিজের কোরাসে গান গাওয়া দিয়ে তাঁর ফিল্মি জীবন শুরু। ১৯৪৬ সালেই 'শিকারী' ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেতা হিসেবে সুযোগ পান এবং ১৯৪৮ সালে 'জিদ্দি' ছবিতে 'মরনে কি দুয়ায়ে কিউঁ মাঙ্গু' গানটি তাঁর গাওয়া প্রথম প্লেব্যাক গান।
Atanu Sen Atanu Sen
পঞ্চাশের দশকের শুরুটা ছিল তাঁর কাছে শুধুই সংগ্রামের। গায়ক হিসেবে তখন রাজত্ব করছেন মহম্মদ রফি, মুকেশ, তালাত মাহমুদ। অভিনেতা হিসেবেও তাঁকে 'অশোক কুমারের ভাই' হিসেবেই দেখা হত। তিনি নিজেও তখন কমেডি অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছিলেন। 'আন্দোলন', 'লড়কি'র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কাড়লেও বড় ব্রেক আসছিল না। এই সময়টায় তাঁর কণ্ঠে সায়গলের প্রভাব স্পষ্ট ছিল, নিজস্ব স্টাইল তখনও তৈরি হয়নি।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
এই কঠিন সময়ে তাঁর জীবনে প্রথম বড় মোড় আসে ১৯৫০ সালে রুমা গুহঠাকুরতার সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে। রুমা ছিলেন বিখ্যাত সঙ্গীত পরিবারের মেয়ে। বিয়ের পর কিশোর কুমার আরও গভীরভাবে সঙ্গীত সাধনায় মন দেন। শচীন দেব বর্মন, যিনি তাঁর গলায় লুকিয়ে থাকা এক অন্যরকম দুরন্তপনা ও যৌবনকে চিনতে পেরেছিলেন, তিনি ধীরে ধীরে তাঁকে নিজের ছবিতে সুযোগ দিতে শুরু করেন। এখান থেকেই এক নতুন কিশোরের জন্মের প্রস্তুতি শুরু হয়।
Atanu Alok Sen Astrology Ta**ra
[ kishore kumar, kishore kumar songs, kishore kumar biography in bengali, bangla kishore kumar golpo, atanu sen ]
30/07/2026
ভারতের স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রফুল্লচন্দ্র সেন এমন এক বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন একদিকে আদর্শবাদ, সততা ও আত্মত্যাগের প্রতীক, অন্যদিকে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ১৮৯৭ সালের ১০ এপ্রিল অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে তাঁর জন্ম। শৈশবের একটি বড় অংশ বিহারে কাটলেও উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতায় আসেন এবং বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিলেতে গিয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নিশ্চিত ছিল, কিন্তু ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী-র ভাষণ তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দেয়। তিনি ব্যক্তিগত কর্মজীবনের সম্ভাবনা ত্যাগ করে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং দেশসেবাকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তী দুই দশকে লবণ সত্যাগ্রহ, ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়; মোট প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় তিনি ব্রিটিশ কারাগারে কাটান। এই দীর্ঘ সংগ্রাম তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রকে আপসহীন, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিকভাবে দৃঢ় করে তোলে।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
১৯২৩ সালে তিনি হুগলি জেলার আরামবাগকে নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। সে সময় আরামবাগ ছিল ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত, কৃষিনির্ভর এবং অত্যন্ত অনুন্নত অঞ্চল। প্রফুল্লচন্দ্র সেন সেখানে খাদি ও কুটিরশিল্প গড়ে তোলেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা আন্দোলন চালান, কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং স্বনির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল একেবারে গান্ধীবাদী—খদ্দরের পোশাক, সাধারণ খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতি সম্পূর্ণ অনাসক্তি এবং জনসেবার প্রতি অবিচল নিষ্ঠা। এই কারণেই সাধারণ মানুষ তাঁকে 'আরামবাগের গান্ধী' নামে সম্মানিত করেন। স্বাধীনতার পর বিধানচন্দ্র রায় তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও সততার প্রতি আস্থা রেখে ১৯৪৮ সালে খাদ্য, কৃষি, ত্রাণ ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করে তিনি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যনীতির প্রধান স্থপতিদের একজন হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৬২ সালের ১ জুলাই বিধানচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী হন।
Atanu Sen
প্রফুল্লচন্দ্র সেন যখন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, তখন পশ্চিমবঙ্গ এক কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন, কৃষিজমির ওপর চাপ বেড়েছে, খাদ্য উৎপাদন জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি এবং শিল্পাঞ্চলে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১৯৬৫ সালের খরা, আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারের অস্থিরতা এবং কেন্দ্রের খাদ্য সরবরাহের সীমাবদ্ধতা। এই পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করলে খাদ্য মজুতদার, কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তাই তিনি কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণকে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর সরকার লেভি ব্যবস্থা চালু করে চালকল মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে সরকারি গুদামে মজুত রাখে। কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে বাধ্যতামূলক রেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়। আন্তঃজেলা খাদ্য পরিবহনে 'কর্ডনিং' ব্যবস্থা চালু করে উদ্বৃত্ত জেলা থেকে অবৈধ চাল পাচার রোধের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় বন্ধ করতে সামাজিক অনুষ্ঠানে চালের তৈরি খাবারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং দুধের সংকট মোকাবিলায় ছানার মিষ্টি তৈরিতেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নীতিগুলোর লক্ষ্য ছিল খাদ্যের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা, কিন্তু বাস্তবে এগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অসন্তোষও বৃদ্ধি পায়।
Atanu Sen
১৯৬৫-৬৬ সালের খাদ্যসংকটই শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করে। খরা, উৎপাদন হ্রাস, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য আন্দোলন (১৯৬৬) রাজ্যজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের রূপ নেয়। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), অন্যান্য বামপন্থী দল, ছাত্র সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠন খাদ্যের দাবিতে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে একাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকও ছিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে দমননীতির অভিযোগ ওঠে এবং জনমনে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একই সময়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বও তীব্র আকার ধারণ করে। প্রদেশ কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠক অতুল্য ঘোষ এবং অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মতপার্থক্যের ফলে অজয় মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে বাংলা কংগ্রেস গঠন করেন। এই বিভাজনের ফলে কংগ্রেসের বহু গ্রামীণ ভোটার নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
Atanu Alok Sen
১৯৬৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় এনে দেয়। বাংলা কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং অন্যান্য বিরোধী শক্তি একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে কংগ্রেসকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানায়। নির্বাচনে প্রফুল্লচন্দ্র সেন নিজের দীর্ঘদিনের দুর্গ আরামবাগ কেন্দ্রেই অজয় মুখোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং যুক্তফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রীর পতন নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ কংগ্রেস-প্রাধান্যের অবসান এবং জোট রাজনীতির সূচনা ঘটায়। পরবর্তী এক দশকে এই পরিবর্তনই ধীরে ধীরে বামপন্থী রাজনীতির উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৭৭ সালে।
#অতনু
ক্ষমতা হারানোর পরও প্রফুল্লচন্দ্র সেন ব্যক্তিগত আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস বিভক্ত হলে তিনি সংগঠন কংগ্রেস (Congress-O)-এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরে জনতা পার্টি-র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে তিনি সমাজসেবা, শিশু কল্যাণ এবং বিধান শিশু উদ্যান-এর উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বিলাসিতা বা সম্পদের কোনো চিহ্ন ছিল না; মৃত্যুর সময়ও তিনি প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় ছিলেন। ১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর জীবনাবসান ঘটে। আজ ইতিহাসের বিচারে প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একই সঙ্গে একজন সৎ, নির্লোভ ও আদর্শবাদী নেতা এবং বাস্তব রাজনৈতিক যোগাযোগে দুর্বল প্রশাসক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ব্যক্তিগত সততা রাষ্ট্রনায়কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলেও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনমত, প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং কার্যকর যোগাযোগ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই প্রফুল্লচন্দ্র সেন আজও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীরভাবে আলোচিত, শ্রদ্ধেয় এবং শিক্ষণীয় অধ্যায়।
#বিজেপি #সিপিআইএম #কংগ্রেস #তৃণমূল
30/07/2026
স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সরকার গঠনের ইতিহাসে ড. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নাম এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তিনি অবিভক্ত বাংলা ভাগের পর নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গের সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় সরকারি পদবির নাম ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী’; ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে সেই পদবিই পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘মুখ্যমন্ত্রী’। তাই সাংবিধানিক পরিভাষায় ড. বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হলেও স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সরকারপ্রধান ছিলেন ড. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং সরকারি অর্থের প্রতি তাঁর কঠোর দায়িত্ববোধ তাঁকে সমসাময়িক রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। তাঁর সম্পর্কে প্রচলিত রয়েছে যে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা থেকে তিনি নিজেকে এবং পরিবারের সদস্যদেরও বিরত রাখতেন। এই কারণেই তাঁর সততা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষেরও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার নজির প্রায় নেই।
Atanu Alok Sen
প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল খাদ্যে ভেজাল, কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান। স্বাধীনতার পর খাদ্যসংকট ও বাজারে অস্থিরতার সময় উত্তর কলকাতার একটি তেল কলে ভেজালের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সরকার কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইতিহাসবিদদের একাংশ এবং সমকালীন স্মৃতিকথায় দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করে। একই সময়ে মন্ত্রিসভায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও তাঁর উপর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির অনেকগুলিই সমসাময়িক বিবরণ, স্মৃতিকথা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল; এগুলির সবকটির স্বাধীন ও চূড়ান্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু এ কথা নিশ্চিত যে, নীতির প্রশ্নে আপস না করার জন্য তিনি দলের মধ্যেই ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
Atanu Sen
১৯৪৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ড. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ পদত্যাগ করেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ড. বিধানচন্দ্র রায়। এই পরিবর্তনকে ঘিরে সে সময় প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বাংলা দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় তাঁর বহুল আলোচিত সম্পাদকীয় ‘উপরের তলার চক্রান্ত’-এ এই রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে নিজের স্মৃতিচারণেও তিনি লিখেছেন, সম্পাদকীয় প্রকাশের পর ড. বিধানচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছিল। যদিও ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কেউ এটিকে দলীয় ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস বলে মনে করেন, আবার কেউ বলেন প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশ্নে কংগ্রেস নেতৃত্ব নতুন নেতৃত্ব চেয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, ড. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের বিদায় ছিল স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির প্রথম বড় ক্ষমতার পালাবদল।
Atanu Sen
সময়ের স্রোতে ড. বিধানচন্দ্র রায়ের দীর্ঘ ও সফল প্রশাসনিক অধ্যায় ইতিহাসে অধিক আলোচিত হলেও, ড. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের সততা, নীতিনিষ্ঠা এবং আপসহীন চরিত্র আজও বহু গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীর কাছে অনুপ্রেরণার বিষয়। পরবর্তীকালে তিনি আবারও অল্প সময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু ক্ষমতার চেয়ে নীতিকে বড় করে দেখার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তিনি রেখে গিয়েছিলেন, তা আজও স্মরণীয়। তাঁর জীবন যেন মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সততা, নৈতিক সাহস এবং জনস্বার্থে আপসহীন অবস্থান ইতিহাসে মানুষের প্রকৃত পরিচয় হয়ে থেকে যায়।
ATANU SEN'S - World : History, Mystery, Education, Politics, Cinema Group
#বিজেপি #সিপিআইএম #কংগ্রেস #তৃণমূল
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Kolkata